ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে ডোমেইন:
যেকোনো ওয়েবসাইটের ডোমেইন হলো একটি ওয়েবসাইটের পরিচয়। পৃথিবীর যত মানুষ গুগল এ যেকোনো ওয়েবসাইট খুঁজে পাওয়ার জন্য ওয়েবসাইটের নাম দিয়ে সার্চ করে থাকে। যেমন ধরুন একটি দোকানের যেমন নাম থাকে তেমনি যেকোনো ওয়েবসাইটের তার পরিচয়পত্র থাকে, যাকে দিয়ে গুগল কিংবা অন্য কোনো ব্রাউসার -এ সার্চ করলে ওয়েবসাইট টি দেখা যায়।
আমরা যে বিষয়/টপিক এর কাজ করি না কেন সেই রিলেটেড নাম দিয়ে আমাদের ডোমেইন নিতে হবে। বিভিন্ন ডোমেইন এর এক্সটেনশন ও বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে যেমন ধরুন। .com, .in , .org ইত্যাদি। যেকোনো ডোমেইনের অনকেকিছু নির্ভর করে থাকে যেমন :ব্র্যান্ডের বিশ্বাস বাড়ায় সঙ্গে নেট দুনিয়ায় পরিচিত তৈরী করতে অনেক সাহায্য করে।
হোস্টিং:
আমাদের ওয়েবসাইট এ যতই ডেটা থাকুন না কেন সেগুলো যেখানে স্টোর করা থাকে সেটি সহজ ভাষায় বলা হয় ওয়েব হস্টিং। কারণ হোস্টিং ছাড়া কোনো ওয়েবসাইট চলতে পারে না। আমাদের ওয়েবসাইট খুব দ্রুততার সঙ্গে চালোনা করতে গেলে ভালো মানের হোস্টিং প্রয়োজনীয়।
অনেক ধরণের হোস্টিং মার্কেটে রয়েছে যেমন ধরুন shared Hosting , VPS এবং cloud Hosting এর মতো আরো অনেক ধরণের হোস্টিং রয়েছে। অনলাইন বিভিন্ন রকমের ওয়েবসাইট থেকে থাকে কিন্তু অনলাইনের ব্যবসার যেমন উন্নতি হয় তার জন্য সঠিক হোস্টিং নির্ধারণ করাও খুবই প্রয়োজনীয় বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল করতে হবে:
বর্তমানে প্রথিবীর সবচেয়ে বেশি ওয়েবসাইট তৈরির জন্য ব্যবহার হয়ে থাকে ওয়ার্ডপ্রেস। এটি কোডিং ছাড়াই অতি সহজেই ওয়েবসাইট তৈরী করা সম্ভব। ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল করার পর ওয়েবসাইটের কাস্টম ডিসাইন, কনটেন্ট প্রকাশ করা থেকে শুরু করে ছবি উপলোড সমস্ত কিছুই সম্ভব। অনেক হোস্টিং কোম্পানি রয়েছে যা একটি ক্লিক করলেই সহজেই ওয়ার্ডপ্রেস খুব সহজে সেটআপ করা সম্ভব।
প্রিমিয়াম এবং ফ্রি থিম দু'টার মধ্যে পার্থক্য:
থিম হলো যেকোনো ওয়েবসাইটের একটি ডিসাইন অর্থাৎ একপ্রকার বলতে গেলে লেআউট। কিন্তু দু'টার মধ্যে পার্থক্য হলো: ফ্রি থিম কোনো প্রকার টাকা লাগে না তেমন বেশি ফিচার যেমন কম থাকে না আর প্রিমিয়াম থিম নিলে একটু টাকা খরচ হলেও সঙ্গে অনেক ফিচার থাকে।
একটি ভালো মানের থিম যা একটি ওয়েবসাইটের প্রফেশনাল লুক ফিরিয়ে আনে, যা ব্যবহারকারীদের মধ্যে এক অন্য রকম অভিজ্ঞতা উন্নত করে ইম্প্রেশন ও ভালো থাকে। প্রত্যেকটি ওয়েবসাইটের যে কয়টি জিনিস রাখতে হবে তা হলো : ওয়েবসাইটের রেস্পন্সিভ যেন ভালো হয় হওয়া থেকে শুরু করে স্পিড সঙ্গে SEO ফ্রেন্ডলি যেন ভালো থাকে ফলে ওয়েবসাইট রেঙ্কিং ভালো হয়।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্লাগিন:
প্লাগিন হলো প্রত্যেকটি ওয়েবসাইটের বিভিন্ন রকম ফিচার যোগ করার একটি মাত্র মাধ্যম। যেমন ধরুন কন্টাক্ট ফর্ম, SEO থেকে শুরু করে সিকিউরিটি, ব্যাকআপ সঙ্গে ওয়েবসাইটের স্পিড সমস্ত রকমের ফিচার যোগ করার একমাত্র মাধ্যম হলো ফিচার।
কিছু কিছু প্রয়োজনীয় প্লাগিন যা আমাদের ওয়েবসাইটকে আরও নিরাপদ করে তোলে সঙ্গে আমাদের মাথায় রাখতে হবে বেশি প্লাগিন ব্যবহার করে থাকলে আবার আমাদের ওয়েবসাইট স্লো হয়ে যায় যা খুবই ক্ষতিকর।
ওয়েবসাইটের লোগো আর ফ্যাবআইকন এর প্রয়োজনীয়তা কি?
লোগো ব্যবহার করা হয় এই কারণে যা একটি ওয়েবসাইটের ব্র্যান্ডিং তৈরী করে। ধরুন আপনি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন পাশের পোস্টের একটি ডিসাইন এ লোগো দেওয়া আছে আপনি কোম্পানির নাম না জানলেও ওই লোগো দেখে বুঝে নিতে পারবেন যে এটা সেই কোম্পানির পোস্টার বা সেই কোম্পানির কাজ।
ফ্যাবআইক প্রত্যেকটি ওয়েবসাইটের ব্রাউসার এর ট্যাব এ একটি ছোট্ট আইকন দেখতে পাওয়া যায়, যা ব্র্যান্ড অর্থাৎ ওয়েবসাইটের প্রতিচিতি বাড়ায়।
মোবাইল ফ্রেন্ডলি ডিসাইন কেন গুরুত্বপূর্ণ:
সারা বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ মোবাইল ব্যবহার করে থাকেন, সেইসকল মানুষ যা মোবাইল দিয়ে ওয়েবসাইট এ ভিসিট করে থাকে। রেস্পন্সিভ ডিসাইন এই কারণে গুরুত্বপূর্ণ যাতে সবরকম ডিভাইস সুন্দর ভাবে দেখা যায়।
লোডিং স্পিড:
আমাদের ওয়েবসাইট যাতে স্পিড ভালো থাকে সেদিকে গুরত্ব দিতে হবে, যাতে ব্যবহারকারীরা সহজে আমাদের ওয়েবসাইটের মধ্যে দেওয়া অর্থাৎ তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে পেয়ে যায়। ওয়েবসাইট যদি স্লো হয় তাহলে ব্যবহারকারীরা বিরক্ত হয়ে ওয়েবসাইট থেকে বেরিয়ে যাবে, যা ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে খুবই ক্ষতিকর বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
সঠিক SEO সেটআপ:
SEO কথার অর্থ হলো : Search Engine Optimization আমাদের ওয়েবসাইট সঠিক SEO করা থাকলে গুগল এ আমাদের ওয়েবসাইট ভালো রেঙ্ক হয়। সহজ সরল ভাষায় বলতে গেলে SEO করা থাকলে আমাদের ওয়েবসাইট সবার নিচে থাকে থাকে না সার্চ করলে সবার উপরে চলে আসে।
তারজন্য আমাদেরকে সঠিকভাবে টাইটেল, কিওয়ার্ড, ইমেজ অপ্টিমাইজেশন সঙ্গে সঠিক প্লাগিন ব্যবহার করতে হবে।
SSl কেন প্রয়োজন ?
SSl সার্টিফিকেট অর্থাৎ HTTPS আমাদের ওয়েবসাইট গুলিকে সুরক্ষিত করে রাখে। SSl যদি না করা থাকে বাজারে অনেক হ্যাকার বসে থাকে যা আপনার ওয়েবসাইট কে ১২ তা বাজিয়ে চলে যাবে। গুগল এর উপর আমাদের সবার বিশ্বাস থাকে সেই কারণে গুগল SSL যুক্ত প্রত্যেকটি ওয়েবসাইট গুলিকে আমরা বেশি বিশ্বাস করে থাকি।
কালার কম্বিনেশন:
একটি ওয়েবসাইট এর কালার নির্ধারণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। সঠিক কালার ব্যবহার করলে ওয়েবসাইট গুলি খুবই সুন্দর দেখায়। এবং লোগো যেই কালার-এ সেই কালার এর উপর নির্ভর করে আমাদের ওয়েবসাইটে কালার ব্যবহার করতে হবে। যা তা কালার দিলেও আবার আমাদের ওয়েবসাইট এর প্রফেশনাল লুক হারিয়ে যায়। সঠিক কালার নির্ধারণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
কেমন ইমেজ ব্যবহার করা দরকার?
সবসময় আমাদের ওয়েবসাইট কে আকর্ষণীয় করার জন্য সমসময় হাই কোয়ালিটি ইমেজ ওয়েবসাইটে ব্যবহার করা দরকার। আই-ক্যাচিং ইমেজ ব্যবহার করলে ওয়েবসাইট একদম প্রফেশনাল লুক এনে দেয়। অপ্টিমাইজ করা ইমেজ সবসময় ব্যবহার করতে হবে, যাতে ওয়েবসাইট স্লো না হয়ে যায় আবার সেই দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
ন্যাভিগেশন মেনু কেমন রাখতে হবে?
যাতে ব্যবহারকারীরা অতি সহজে সমস্ত রকমের পেজ খুঁজে পেতে পারে সেই দিকে মাথায় রেখে মেনু স্ট্রাকচার সবসময় পরিষ্কার ইউসার ফ্রেন্ডলি রাখতে হবে। প্রত্যেক মেনু সুন্দরভাবে সাজাতে হবে সেই দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
কন্টাক্ট ফর্ম কেমন রাখতে হবে?
ব্যবহারকারীরা যাতে সহজে যোগাযোগ করতে পারে সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে। যাতে ব্যবহারকারীদের মধ্যে কোনোরকম প্রশ্ন থাকলে তা কন্টাক্ট ফর্ম এর মধ্যমে সহজে পাঠাতে পারবে।
সোশ্যাল মিডিয়া কেন প্রয়োজনীয়?
আমাদের ওয়েবসাইটের সঙ্গে বিভিন্নরকম সোশ্যাল মিডিয়া যুক্ত থাকলে অনেক সুবিধা হয়ে থাকে যেমন ধরুন নিজের ব্র্যান্ড এর প্রচার হয়ে থাকে সঙ্গে অডিয়েন্স বাড়াতে অনেক সাহায্য হয়ে থাকে। এই জন্য সোশ্যাল মিডিয়া যুক্ত করা আমাদের ওয়েবসাইটের সঙ্গে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
ব্যাকআপ সিস্টেম কি করা দরকার?
একটি ওয়েবসাইটের সমস্তরকম তথ্য সুরক্ষিত রাখার জন্য ব্যাকআপ সিস্টেম করা দরকার। কোনোরকম সমস্যা যদি আমাদের ওয়েবসাইটে হয়ে থাকে তাহলে অতি সহজে আমাদের তথ্য ব্যাকআপ সিস্টেম থেকে পুনরায় ওয়েবসাইটে ফিরিয়ে আনা যেতে পারে।
সিকিউরিটি জন্য কি প্লাগিন ব্যবহার করা দরকার?
হ্যাকার আমাদের ওয়েবসাইট যাতে সহজে হ্যাক না করতে পারে সেজন্য সিকিউরিটি প্লাগিন ব্যবহার উচিত। ব্যবহারকারীরা সময় নিরাপদ ওয়েবসাইটের উপর বিশ্বাস করে থাকে।
রেস্পন্সিভ ওয়েবসাইট কি প্রয়োজন ?
রেস্পন্সিব ওয়েবসাইট ব্যবহার না করলে যেকোনো ডিভাইস এ ওয়েবসাইট ভালো দেখায় না। বর্তমানে অধিকাংশ মানুষ মোবাইল থেকে শুরু করে ট্যাবলেট ব্যবহার করে থাকেন, এইযে বিভিন্ন ডিভাইস এ ওয়েবসাইটকে সুন্দর দেখানোর জন্য রেস্পন্সিভ খুবই প্রয়োজনীয় অর্থাৎ ইউসার এক্সপিরিয়েন্স খুব সুন্দর হয়।
CTA বটম:
CTA বটম অর্থাৎ কল টু অ্যাকশন বটম, ব্যবহারকারীদের নির্দিষ্ট কাজ করতে অনেক সুবিধে হবে। যেমন ধরুন "কন্টাক্ট নাউ" , "বাই নাউ" , "লার্ন মোর " ইত্যাদি।

0 মন্তব্যসমূহ