UX/UI Design totally Bangla (পুরোপুরি বাংলায় UX/UI ডিসাইন)

কি কি গাইড লাইন অনুসরণ করা প্রয়োজন UX/UI ডিসাইন এর জন্য: 

আজকের বর্তমান সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্কিল হলো UX/UI ডিসাইন। UX কথার অর্থ হলো ইউসার এক্সপেরিয়েন্স আর UI কথার অর্থ হলো ইউসার ইন্টারফেস। সহজ সরল ভাষায় বলতে গেলে কোনো ইউসার যখন আমাদের ওয়েবসাইটে ভিসিট করার সময় তারা যেন খুব সহজে সমস্ত কিছু বুঝতে পারে এবং সুন্দর একটা অভিজ্ঞতা অর্জন করে, সেটাই এক কথায় বললে UX/UI ডিসাইন। 


আমরা যখন একটা ওয়েবসাইট বানাই সেটা শুধুমাত্র সুন্দর দেখার জন্য নয় বরং দেখার সাথেও যেন খুব সহজে বুঝতে পারে। প্রত্যেকটি ছোট ছোট ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বড়ো বড়ো কোম্পানি তাদের ব্যবসা এখন অনলাইনে নিয়ে চলে যাচ্ছে, তাই এইসব কাজের জন্য ভালো UX/UI ডিসাইনার দরকার হয়ে পড়ে, তেমনি ডিসাইনার দের চাহিদা বেড়েই চলেছে। 

একজন ভালো মানের UX/UI ডিসাইনার ভবিষ্যতেও ফ্রিল্যাংসিং ও শুরু করতে পারে। যারা এইসব লাইনে কাজ করতে ভালোবাসেন অর্থাৎ ক্রিয়েটিভ লাইনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান, তাদের ভবিষ্যতের এক সুন্দর ক্যারিয়ার গড়ার দিক হতে পারে। 


UX VS UI (এই দুটোর মধ্যে পার্থক্য কি):

UX/UI এই দুটো জিনিসকে আবার এক মনে করেন, কিন্তু না তা একেবারেই আলাদা বিষয়। আমাদের ওয়েবসাইটে যখন কোনো ইউসার ভিসিট করবে, সে যত সহজে কাজগুলো বুঝতে পারবে সেটি হলো UX এর পার্ট। অন্যদিকে যদি UI এর কথা বলা যায় তবে সহজ ভাষায় বলতে গেলে ইউসাররা ভিসুয়ালি ডিসাইন টি দেখতে পারবে যেমন উদাহরণ দেখলে যেকনো ওয়েবসাইটে বাটন, ওয়েবসাইটের কালার, টাইপোগ্রাফি এবং পুরো ওয়েবসাইটের লেআউট।

একটি সুন্দর লেআউট যেমন আকর্ষণীয় করে তোলে তেমনি ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা বাড়ায়। 
যদি আরও সহজ ভাবে বলতে গেলে, একটি ওয়েবসাইট দেখতে সুন্দর হওয়ার সাথে সাথে ব্যবহার করতে সহজ হয় সেই দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। আসাকরি এইটুকু বোঝা গেছে যে কিভাবে UX আর UI দু'টো একসঙ্গে কাজ করে।  

ডিসাইন নিয়ে ভাবনাচিন্তা কেমন?

যে ইউসার তার সাথে কথোপকথন করে তার যত সমস্যা আছে ডিসাইন রিলেটেড তা বুঝে সমাধান করা। একজন ইউসার সে কি চায় সেটা বুঝে তারপর সমস্যাগুলোকে সমাধানের চেষ্টা করা, এবং সমস্যা গুলোর মধ্যে কোনটা খুব সহজে সমাধান করা সম্ভব সে দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। 


ওয়ারফ্রেম এবং প্রোটোটাইপ কি?

প্রত্যেকটি ডিসাইন করার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ওয়ারফ্রেম তৈরী করে নেওয়া সঙ্গে প্রোটোটাইপ ও করে ফেলতে হবে। 

ওয়ারফ্রেম কথার অর্থ কি বোঝায়?
প্রত্যেকটি ডিসাইন করার আগে তার প্রাথমিক কাঠামো তৈরী করার মানে হলো ওয়ারফ্রেম।  

প্রোটোটাইপ অর্থ কি বোঝায়?

ইউসার এর কাছে অ্যাকচুয়াল ডিসাইন কি ফিচার থাকতে চলেছে তা বোঝানোর জন্য প্রোটোটাইপ করা হয়ে থাকে। এমন ধরুন কোন বাটম ক্লিক করলে সেটা অন্য পেজ চলে যাচ্ছে এইগুলো বোঝানোর জন্য প্রোটোটাইপ করা হয়ে থাকে। কারণ প্রোটোটাইপের মাধ্যমে ইউসার বাস্তবে কিভাবে কাজ করবে তার অভিজ্ঞতা বাড়ায়। 

আমরা কাজ শুরু করার আগে এই দু'টা জিনিস করে থাকলে ভুলগুলো ধরা পড়ে যায় তাতে সময় ও বাঁচে। 

ফিগমা টুল ব্যবহার করতে:

আমাদের ওয়েবসাইট ডিসাইন এর জন্য বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়ে থাকে ফিজিমা। আগে আমরা ফটোশপ ব্যবহার করে থাকতাম সেখানে যেকনো কোম্পানিতে লাইসেন্স নিতে গেলেও খরচ অনেক বেশি পড়তো আর এখানে ফিগমা হচ্ছে ফ্রি টুল সহজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কিছু ফিচার রয়েছে যা নিতে গেল একটু খরচ পড়ে, আমাদের ডিসাইন করার জন্য কোনোরকম খরচ না করেও এই টুল ব্যবহার করা যায়। 

ফটোশপ এ ডিসাইন করলেও তা ডিসাইন দেখানোর জন্য ফাইল পাঠাতে হতো, তাও কাজ করা ফাইল হয়ে যেত অনেক ভারী যা পাঠাতে অনেক অসুবিধা হতো, কিন্তু ফিগমা হল অনলাইন টুল যা কাজ করার পরেও ডিসাইন দেখানোর জন্য কোনোরকম ফাইল পাঠানোর দরকার পড়ে না। শুধুমাত্র লিংক শেয়ার করলেই আমাদের ডিসাইন দেখতে পাওয়া যাবে। 

অতি সহজে ফিগমা ব্যবহার করা সম্ভব, কয়েকটি টুল আছে যারা নতুন তাদের জন্য খুবই সুবিধাজনক একটি টুল। ফিগমা ডিসাইন থেকে শুরু করে অনেক কিছু করা সম্ভব, যেমন ধরুন কম্পোনেন্ট তৈরী করা সম্ভব, সঙ্গে প্রোটোটাইপও। এছাড়াও আরও অনেক ধরণের কাজ করা সম্ভব যেমন ধরুন ওয়েবসাইট, এপ্লিকেশন, ড্যাশবোর্ড এবং সোশ্যাল মিডিয়া ইত্যাদি। 

রেস্পন্সিভ ডিসাইন কেমন করবেন?

বর্তমানে টেকনোলজি আগের থেকে এতো উন্নত হয়েছে যে বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষ মোবাইল, ট্যাব এবং কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকেন। এই বিভিন্ন রকম ডিভাইস গুলিতে আমাদের ডিসাইন এমন ভাবে করতে হবে যাতে প্রত্যেকটি ডিভাইস গুলিতে আমাদের ডিসাইন সুন্দরভাবে দেখায়। যাকে সহজভাবে বলতে গেলে রেস্পন্সিভ ডিসাইন বলা হয়। 

আমাদের ডিসাইন গুলো যদি না রেস্পন্সিভ হয়, তাহলে প্রত্যেকটি ডিভাইস গুলিতে বিচ্ছিরি দেখায়, যেটা গুগল বর্তমানে রেস্পন্সিভ ডিসাইন বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। 

পোর্টফোলিও তৈরী করা:

পোর্টফোলিও কি? তা সহজ ভাষায় বলতে গেলে বলা যায় যে একটি পোর্টফোলিও এর মধ্যে থাকে আমাদের দখ্যতা যা যেকোনো কোম্পানি বা ক্লাইন্টের কাছে সুন্দরভাবে প্রকাশ করা হয়। পোর্টফোলিও ক্লায়েন্ট বা কোম্পানির কাছে ভালো ইম্প্রেশন তৈরী করে। 

একটি পোর্টফোলিও শুধুমাত্র ডিসাইন দেখায় না বরং কোম্পানিতে কাজের সুযোগ করে দেয় সঙ্গে ভবিস্যতে ফ্রীল্যানসিং করলে ক্লায়েন্টের কাছ থেকে কাজ পাওয়া সুবিধা হয়। 

ফ্রিল্যাংসিং:

বর্তমানে ডিসাইন এর উপর অনেকে ফ্রীল্যাংসিং করে থাকেন, যার জনপ্রিয়তা পরপর বেড়ে চলেছে। বিভিন্ন ফ্রীল্যাংসিং করার প্লাটফর্ম রয়েছে, যেমন ধরুন Fiverr, Upwork এবং Freelancer ইত্যাদি। এইসব প্লাটফর্ম-এ গিগ তৈরী করতে হয়, সেখান থেকে ছোট ছোট প্রজেক্ট এর কাজ শুরু করা থেকে শুরু করে অনেকে ভালো ভালো পসিশন এ পৌঁছেছেন।

তাছাড়াও ফ্রেল্যাংসিং এর মাধ্যমে কাজ অর্থাৎ দেশের বাইরে থেকে ক্লায়েন্ট এর কাজ অনেকে করে থাকেন। তাই ফ্রীল্যাংসিং এর মার্কেট অনেক ডিমান্ড রয়েছে। তার জন্য দরকার ভালো ডিসাইন স্কিল, ভালো স্কিল না থাকলে কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। যা এই স্কিল অর্থাৎ ভালো UX/UI ডিসাইন স্কিল শেখার পর ফ্রীল্যাংসিং এর মাধ্যমে ভবিস্যতের স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ তৈরী করে ডে। 

প্রজেক্ট:

শুধুমাত্র ডিসাইন ডিসাইন থিওরি জানলে হবে না, ডিসাইন নিয়ে প্রতিদিন প্রাকটিস করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। প্রজেক্ট এ কাজ করলে বিভিন্নরকম সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, তার সমাধান ও আমাদের করতে হয়, সেখান থেকে আমাদের কাজের দক্ষতা বাড়ে। যখন নিজের দক্ষতা খুব ভালোভাবে হয়ে যাবে, তারপরে ফ্র্রিল্যাংসিং করে নিজের স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ রয়ে থাকে। 

UX/UI ডিসাইন কেন শিখবো?

UX/UI ডিসাইন এমন একটি স্কিল যা বর্তমানে প্রচুর পরিমানে চাহিদা রয়েছে মার্কেটে। এই স্কিল শিখে অনেকে ফ্রীল্যাংসিং করে থাকে। অতি সহজ সরল ভাষায় বলতে গেলে যেমন ধরা যাক কোনো একটা ডিসাইন ওয়েবসাইট, মোবাইল এপ্লিকেশন কিংবা ড্যাশবোর্ড তা দেখতে কেমন হবে সঙ্গে উজাররা তা কেমন ব্যবহার করবে তা ডিসাইন এর মাধ্যমে বোঝানো সম্ভব।

UX/UI ডিসাইন-এর কাজ করতে করতে জানতেন পারবেন যে একটি ডিসাইন কেমন হওয়া দরকার, কালার স্কিম কেমন রাখা দরকার, কি ফ্রন্ট ব্যবহার করতে হবে, কেমন ওয়ারফ্রেম বানাতে হবে প্রোটোটাইপ থেকে শুরু করে সমস্ত কিছু জানতে পারবেন। এই স্কিল শিখে ভালো ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ তৈরী করে দেয়। 


আশাকরি আমরা বোঝাতে পেরেছি আপনাকে যে কেন এই স্কিল শিখে নিজের ভবিষৎ গড়া সম্ভব। এতক্ষন আমাদের এই আর্টিকেল টি সময়নিয়ে পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। সঙ্গে থাকবেন পাশে থাকবেন। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ