ফ্রীলান্সিং এর জনপ্রিয়তা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। ফ্রীলান্সিং হলো স্বাধীনভাবে কাজ করার এক পথ যা নিজের সময় বুঝে কাজ করা অর্থাৎ যখন মন চাইবে তখন কাজ করবো না মন চাইলে কাজ না করলেও চলবে। নিজের মর্জির মালিক এখানে কারোর অধীনে কাজ করতে হবে না।
আপনি যদি কোনো ক্ষেত্রে জ্ঞান ভালো থাকে তারই উপর ফ্রীলান্সিং শুরু করা যাবে আপনার ওই কাজে ভালো দক্ষ্য থাকা প্রয়োজন। যেমন ধরুন: গ্রাফিক্স ডিসাইন, ওয়েব ডিসাইন সঙ্গে ডেভেলপমেন্ট, আরও কনটেন্ট রাইটিং, ডিজিটাল মার্কেটিং থেকে শুরু করে ভিডিও এডিটিং এর মতো আরও অনেক কিছু। যার উপর মানুষ ফ্রীলান্সিং করে থাকেন এবং অনেক পরিমান টাকাও উপার্জন করে থাকে।
ফ্রীলান্সিং এর সঙ্গে সঙ্গে পেমেন্ট প্রোসেস ও ভালো রাখতে হবে। যেমন ধরুন করো ক্লায়েন্ট এর কাজ করলেন, কাজটি কমপ্লিট হয়ে যাওয়ার পর যে টাকাটা পাবেন তারও একটা মাধ্যম থাকা প্রয়োজন। সঠিক ভাবে পেমেন্ট গেটওয়ে থাকা প্রয়োজন, যাতে কোনো রকম অসুবিধা না হয়।
অনেক ধরণের পেমেন্ট গেটওয়ে রয়েছে যেমন ধরুন পেপ্যাল, wise, stripe এর মতো অনেক ধরণের , যার মাধ্যমে মানুষ পেমেন্ট নিয়ে থাকেন।
পেপ্যাল (PayPal) কেমন:
বিশ্বের সবথেকে বেশি পরিমানে ব্যবহৃত হয়ে থাকে পেপ্যাল পেমেন্ট গেটওয়ে। যখন আপনি বাইরের অর্থাৎ আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্ট এর হয়ে কাজ করবেন সেক্ষেত্রে পেমেন্ট নেওয়ার জন্য পেপ্যাল পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। পেপ্যাল একাউন্ট তৈরী করার পর আপনি যেকোনো দেশের ক্লায়েন্টদের সঙ্গে ফ্রীলান্সিং করা টাকা উপার্জন করা সম্ভব কোনো রকম অসুবিধা ছাড়াই।
এর বিশেষ গুন্ যেটা হলো বিশ্বব্যাপী যেকোনো দেশ হোক না কেন পেমেন্ট গ্রহণ যোগ্যতা থাকে। প্রায় সব মানুষ অর্থাৎ যারা ফ্রীলান্সিং করে থাকেন তারা সবাই পেপ্যাল পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করে থাকেন।
বিশ্বের সবথেকে বেশি পরিমানে ব্যবহৃত হয়ে থাকে পেপ্যাল পেমেন্ট গেটওয়ে। যখন আপনি বাইরের অর্থাৎ আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্ট এর হয়ে কাজ করবেন সেক্ষেত্রে পেমেন্ট নেওয়ার জন্য পেপ্যাল পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। পেপ্যাল একাউন্ট তৈরী করার পর আপনি যেকোনো দেশের ক্লায়েন্টদের সঙ্গে ফ্রীলান্সিং করা টাকা উপার্জন করা সম্ভব কোনো রকম অসুবিধা ছাড়াই।
এর বিশেষ গুন্ যেটা হলো বিশ্বব্যাপী যেকোনো দেশ হোক না কেন পেমেন্ট গ্রহণ যোগ্যতা থাকে। প্রায় সব মানুষ অর্থাৎ যারা ফ্রীলান্সিং করে থাকেন তারা সবাই পেপ্যাল পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করে থাকেন।
আপনি যখন অন্যকোনো দেশের ক্লায়েন্টদের সঙ্গে ফ্রীলান্সিং করবেন অর্থাৎ যে টাকাটা পাবেন তা রূপান্তর করার সময় কিছু টাকা কাটা হয়। কিন্তু এর নিরাপত্তা অর্থাৎ সিকিউরিটি বেশ শক্তিশালী।
পায়নীর(Payoneer):
আপনি যেকোনো প্লাটফর্ম এ কাজ করুন না কেন অর্থাৎ সেটা Upwork, Fiverr, Amazon ইত্যাদি যেকোনো প্লাটফর্ম হোক না কেন সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় বর্তমানে পায়নের পেমেন্ট সব সলুশনগুলির মধ্যে একটি।
যারা পায়নীর ব্যবহার করে থাকেন, তারা বিশ্বব্যাপী ক্লায়েন্ট দের সঙ্গে যখন কাজ করেন, সেই সব ক্লায়েন্টরা ভার্চুয়াল ব্যাঙ্ক একাউন্ট প্রদান করে থাকেন। এর ফলে সুবিধা কি হয় তারা স্থায়ী অর্থাৎ সরাসরি ব্যাংকে টাকা ট্রানফার করতে পারেন। এতে টাকা তোলার ক্ষেত্রে খুবই সুবিধা।
Wise(Formerly TransferWise) কী:
ধরুন আপনি যখন কোনো ক্লায়েন্ট এর কাজ থেকে টাকা নিচ্ছেন সেক্ষেত্রে টাকা ট্রানফার করার জন্য অতিরিক্ত খরচ কম লাগে অর্থাৎ কম খরচে হয়ে যায়। এরফলে ফ্রীলান্সাররা তাদের উপার্জনের টাকা অনেক বেশি আসে।
আরও সহজ সরল ভাষায় বললে, যদি বিশ্বব্যাপী ক্লায়েন্টদের ব্যাংক একাউন্ট তথ্য সহজে পাওয়া যায়, যা সহজে আপনি টাকা ট্রানফার করতে পারেন। যারা টাকা ট্রান্সফার করার সময় কম অর্থ প্রদান করতে চান তাদের ক্ষেত্রে wise পেমেন্ট গেটওয়ে খুবই ভালো অর্থাৎ উপযুক্ত।
Stripe কী?
Stripe কী?
যারা সাস এর ব্যবসা কিংবা ডিজিটাল পণ্য অনলাইনে বিক্রি করে থাকেন তারা বিশেষ করে stripe পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করে থাকেন।
stripe পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করলে বিশেষ সুবিধা থাকে যেটি হলো এখানে ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড এবং যত আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গ্রহণ করার জন্য খুবই সুবিধা। অন্যান্য ফিচার গুলির কথা যদি বলা হয় সেক্ষেত্রে ইনভয়েসিং, সাবস্ক্রিশন বিলিং সঙ্গে অটোমেশন ফিচারও আমাদের ফ্রীলান্সিং কিংবা অনলাইন স্টোর অর্থাৎ যারা অনলাইনের বিক্রয় করেন তাদের ব্যবসা আরও পেশাদার করে তোলে।
Razorpay কী?
ভারতের মধ্যে সবথেকে জনপ্রিয় পেমেন্ট গেটওয়ে মধ্যে একটি হলো Razorpay অর্থাৎ এখানে UPI, Credit Card, Debit Card থেকে শুরু করে সমস্ত রকমের পেমেন্ট গ্রহণ করার সুবিধা থাকে। যারা ফ্রীলান্সিং করেন তারা ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে সহজে পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারবেন অর্থাৎ Razorpay এর পেমেন্ট লিঙ্ক এবং ইনভয়েস এর ফিচার রয়েছে তা ব্যবহার করে সহজে ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করতে পারবেন।
পেমেন্ট গ্রহণ করার জন্য কোনো আলাদা ভাবে পেজ তৈরী করার লাগে না বরং পেমেন্ট লিংক তৈরি করে ক্লায়েন্টদের কাছে শেয়ার করে যেকনো ধরণের কাস্টমার হোক সে ছোট ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বড়ো ব্যবসায়ী সমস্ত রকমের ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে খুব সহজে টাকা গ্রহন করা যায়।
Cashfree কী?
Cashfree কী?
ভারতে সবচেয়ে অর্থাৎ আধুনিক পেমেন্ট এর কথা বলা হয়ে থাকে সবচেয়ে আধুনিক পেমেন্ট গেটওয়ে হলো Cashfree, যা সহজে আপনি পেমেন্ট গ্রহণ করার জন্য একটি পেমেন্ট লিংক তৈরী করে সেই লিংক ক্লায়েন্টদের কাছে পাঠানো হয়।
Instamojo কী?
এটি বিশেষ করে যারা লোকাল ব্যবসায়ী অর্থাৎ ছোট ব্যবসায়ী, যারা কনটেন্ট creator এবং যারা ফ্রীলান্সিং এর কাজ করেন তাদের জন্য বিশেষ করে এই পেমেন্ট গেটওয়ে তৈরী করা হয়েছে। এটি খুব সহজে অর্থাৎ খুব দ্রুত সেটআপ করা যায় যার কারণে ফ্রীলান্সাররা খুব বেশি ব্যবহার করে থাকেন।
Paytm কী ?
Paytm কী ?
paytm হলো একটি পেমেন্ট গেটওয়ে যা বর্তমানে সবথেকে বেশি অর্থাৎ ডিজিটাল পেমেন্ট প্লাটফর্ম। এই প্লাটফর্মে সমস্ত রকমের পেমেন্ট গ্রহণ করা সম্ভব অর্থাৎ UPI, Wallet, Card এবং কি Net Banking পর্যন্ত সবধরণের পেমেন্ট গ্রহণ করা সম্ভব।
যারা ভারতীয় ক্লায়েন্টদের সঙ্গে ফ্রীলান্সিং করে থাকেন তাদের বেশির ভাগ Paytm এর মাধ্যমে পেমেন্ট করে থাকেন।
PhonePe কেমন?
বর্তমানে ভারতের জনপ্রিয় পেমেন্ট প্লাটফর্ম হলো PhonePe যা প্রায় সমস্ত মানুষ টাকা লেনদেন এর জন্য এই প্লাটফর্ম ব্যবহার করে থাকেন। এটা চালনা করা খুবই সহজ, খুব দ্রুত এবং নিরাপদ সঙ্গে প্রসেসসিং স্পিড ও খুব ভালো।
যারা ফ্রীলান্সার তারা টাকা গ্রহণ করার জন্য ক্লায়েন্টকে পেমেন্ট লিংক শেয়ার করে থাকেন, শুধুমাত্র পেমেন্ট গ্রহণ করার জন্য পেমেন্ট লিঙ্ক নয় অর্থাৎ পেমেন্ট গ্রহণ করার জন্য পেমেন্ট লিঙ্ক ছাড়ার ক্লায়েন্টকে QR কোড এবং UPI ও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বিশেষ করে ছোট থেকে বড়ো ব্যবসায়ীরা বেশির ভাগ মানুষ এই প্লাটফর্ম ব্যবহার করে থাকেন।
Bank Transfer কেমন ?
যারা ফ্রীলান্সিং করে থাকেন তারা বিশেষ করে জানেন যে অনেক ক্লায়েন্ট টাকা ট্রান্সফার সরাসরি ব্যাঙ্কে ট্রান্সফার করতে পছন্দ করে থাকেন। এক্ষেত্রে তারা কোনোরকম অন্যকোনো প্লাটফর্ম ব্যবহার না করেও সরাসরি ব্যাঙ্কে ট্রান্সফার করা সম্ভব।
এক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক থেকে ব্যাঙ্ক টাকা ট্রান্সফার করার মাধ্যম হলো NEFT, RTGS এবং IMPS অর্থাৎ খুব সহজে টাকা ট্রান্সফার করা যায়। এতে সুবিধা হলো, এখানে টাকা ট্রান্সফার করার জন্য আমাদের যে সার্ভিস চার্জ লাগতো তা খুব কম খরচে টাকা ট্রান্সফার করা যায়।
ফ্রীলান্সিং :
যারা ফ্রীলান্সিং করে থাকেন আন্তর্জাতিক স্তরে অর্থাৎ Freenalcer, Fivver এর মতো বিভিন্ন প্লাটফর্মে সেখানে টাকা ট্রানফার করার জন্য PayPal, Wise, Payoneer এর মতো ইত্যাদি।
আশাকরি আমরা আমাদের এই আর্টিকেল এর মধ্যে বোঝাতে পেরেছি যে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য জনপ্রিয় পেমেন্ট গেটওয়ে ও পেমেন্ট সলিউশন অর্থাৎ সঠিক পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করলে দ্রুত পেমেন্ট গ্রহণ করা সম্ভব হয়, যা খুব কম খরচে, আর যাঁরা আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের সঙ্গে কাজ করে থাকেন তাদের ক্ষেত্রে পেমেন্ট রিসিভ করে আরো পেশাদার ভাবে কাজ করা সম্ভব হয়।
আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ সময় করে আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ার জন্য। এইরকম হেল্পফুল আর্টিকেল আমরা দিয়ে থাকি। এই আর্টিকেল যদি আপনার হেল্প করে থাকে তাহলে আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানাবেন।
.jpg)
0 মন্তব্যসমূহ