UGC (User-Generated Content) কী?

বর্তমানে যদি বলা যায় অর্থাৎ ডিজিটাল যুগে এতটাই অ্যাডভান্স হয়েছে যে সোশ্যাল মিডিয়া, ecommerce থেকে শুরু করে অনলাইন মার্কেটিং এর জন্য UGC(User - Generated Content) ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যদি আপনি বিভিন্ন রকম সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে থাকেন যেমন ধরুন ফেইসবুক, ইনস্টাগ্রাম, youtube short প্লাটফর্মগুলি ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে আপনি লক্ষ্য করে থাকবেন, আপনার অজানতেই অথাৎ UGC ভিডিও আপনার সামনে চলে আসে। 

যদি আগের কথাই বলা যাক না কেন, একটি প্রোডাক্ট প্রমোট করার জন্য বড়ো বড়ো প্রোডাকশন হাউস এর প্রয়োজন হতো যাতে তার পণ্য প্রমোট করে দেয়, আবার বড়ো বড়ো সেলেব্রেটি থেকে শুরু করে ইনফ্লুয়েন্সার কে ধরা হতো কিন্তু এখন UGC ব্যবহার করে আমরা ভিডিও তৈরী করে থাকি। 





শুধুমাত্র ভিডিও তৈরী করা নয় বরং ছবি এবং রিভিউ ব্যবহার করে আমরা মার্কেটিং করে থাকি। এটা কম সময়ের মধ্যে একটি প্রমোশন ভিডিও তৈরী করা হয়ে থাকে, না লাগে খরচ, না লাগে অভিনেতা, না লাগে ইনফ্লুয়েন্সার এবং বড়ো প্রোডাকশন হাউস ছাড়াই আমরা কম সময়ের মধ্যে একটি প্রফেশনাল ভিডিও তৈরী করা যায়।  

এই কারণে UGC ব্যবহারের দিক থেকে ক্রমশ বেড়েই চলেছে। এর সুবিধা কনটেন্ট ক্রিটোররা তুলছে, বাড়িতে বসে প্রচুর টাকা অর্জন করছে। 

UGC কী?
UGC কথার অর্থ হলো-User - Generated Content, আরও যদি আমরা সহজ সরল ভাষায় বলা যায়, ধরুন আপনি কোনো পণ্য অনলাইন থেকে কিনছেন এবং সেটির একটি ফিডব্যাক অর্থাৎ রিভিউ আপনি একটি ভিডিও বানিয়ে ইউটিউবে পোস্ট করলেন সেটি একটি UGC ভিডিও। 

আরও ২-১ টি উদহারণ স্বরূপ আমরা জানবো চলুন-

আপনি কোনো রেস্টুরেন্ট যে গিয়েছেন এবং সেখানে খাবার ভিডিও বা ছবি তুলি আপনি আপনার ফেইসবুক পেজ পোস্ট করলেন। সেটা একধরণের UGC বলা হয়ে থাকে। 

আবার ধরুন আপনি অনলাইনে অর্থাৎ ফ্লিকার্ড, আমাজন এর মতো অনলাইনে একটি রিভিউ দিলেন সেটিও একপ্রকার UGC বলা হয়ে থাকে। 

এবার এককথায় বলা যাক আপনি যেসকল রিভিউ, ভিডিও, ফটো পোস্ট করে থাকেন যা অন্যদের কেনার জন্য উৎসাহিত করে তোলে অর্থাৎ যা মানুষের মধ্যে কেনার চাহিদা আরো বাড়িয়ে তোলে সেটি হলো UGC .


**UGC -এর সম্পূর্ণ বাংলা অর্থ হলো - ব্যবহারকারীর তৈরী করা কনটেন্ট। **

UGC এর ইতিহাস কেমন?

UGC নিয়ে অনেকে আছেন যারা মনে করেন যে এটি একটি নতুন বিষয়, তা কিন্তু নয়। এটার জনপ্রিয়তা যত বেড়েই চলেছে অর্থাৎ জনপ্রিয় হওয়ার পর থেকেই অনেক মানুষ তারা তাদের সোশ্যাল মিডিয়াতে ছবি, ভিডিও এবং তাদের মতামত অনলাইনের শেয়ার করে থাকেন। জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া যেমন ধরুন ইউটিউব, ফেইসবুক, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদির মতো প্লাটফর্মে UGC এর জনপ্রিয়তা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। 

কোথাথেকে শুরু হয়েছে:

UGC প্রথম ধাপ ছিল ব্লগিং অর্থাৎ কিছু বছর আগে মানুষ নিজেদের পার্সোনাল কাজে বা নিজেদের পণ্যের যেসমস্ত অভিজ্ঞতা তা লিখতো। 

তারপর যদি দেখি মানুষ তাদের কেনা পণ্যের রিভিউ দিতো ইকমার্স ওয়েবসাইটে থেকে শুরু করে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে যেমন ধরুন আমাজন, ফ্লিপকার্ড, কোৱা এর মতো জনপ্রিয় ওয়েবসাইটে মানুষ তাদের রিভিউ দিয়ে থাকে।   

আবার অনেকে তাদের সোশ্যাল মিডিয়াতে ছবি, ভিডিও পোস্ট করে থাকে ফলে সে ক্ষেত্রে UGC আরও জিনপ্রিয় করে তুলেছে। 

ইউটিউব শর্ট, ইন্সটাগ্রাম রীল, এবং tiktok এর মতো প্লাটফর্ম গুলিতে UGC এর ব্যবহার ক্রমশ বেড়েই চলেছে। যেখানে প্রতিটি শর্ট ভিডিওতে কয়েক লক্ষ ভিউজ চলে আসে অর্থাৎ ৩০ সেকেন্ড এর ভিডিওতে। 

AI চলে আসায় বর্তমানে AI টুল এর দ্বারা মানুষ ভিডিও এডিটিং থেকে শুরু করে থাম্বনেইল, স্ক্রিপ্ট আরও বিভিন্ন ধরণের প্রয়োজনীয় জিনিস খুব কম সময়ের মধ্যে তৈরী করে নিচ্ছে। 


UGC কেন এত গুরুত্বপূর্ণ আমাদের :

যদি আমরা দেখি বর্তমানে মানুষ একটি আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের চেয়ে মানুষের কথায় বেশি গুরত্ব দিয়ে থাকে অর্থাৎ ধরুন কোনো একজন ভিডিও এর মাধ্যমে বলছে যে এই পণ্য টা কিনলে বেশি সুবিধা পাবে এবং সেখানে সেই পণ্যের খারাপ ও ভালো দিক তুলে ধরেছে, এক্ষেত্রে মানুষ অনেক বেশি বিশ্বাস করবে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টার এর থেকে। 


বর্তমানে যদি দেখি ছোট ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বড়ো বড়ো ব্যবসায়ী তাদের পণ্য প্রোমোট করার জন্য UGC ব্যবহার করে থাকে, ফলে এর চাহিদা বেড়েই চলেছে। যেহেতু মানুষ একটি পোস্টার এর থেকে মানুষের অভিজ্ঞতার উপর বেশি বিশ্বাস করে থাকে। 

UGC ব্যবহার করলে যেমন মানুষের মধ্যে বিশ্বাস বাড়ায়, বিক্রি হারও বাড়িয়ে তোলে, খুব কম খরচে আমরা মার্কেটিং করে থাকি, ব্রান্ডের পরিচিতি বাড়ায় ইত্যাদি। 

বিভিন্ন ব্রান্ডের উদ্দেশ্য অনুযায়ী অর্থাৎ প্লাটফর্ম এবং দর্শকদের ধরণের উপর ভিত্তি করে UGC ব্যবহার করা হয়ে থাকে। 

ভিডিও:
বর্তমানে যদি আমরা দেখি UGC দিয়ে ভিডিও সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। যেসব সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম গুলি আছে যেমন ধরুন ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, ফেইসবুক ইত্যাদি এইসব প্লাটফর্মে UGC এর ব্যবহার অনেক বেশি হয়ে থাকে। 

ভিডিও এর মাধ্যমে প্রোডাক্ট রিভিউ, প্রোডাক্ট ডেমো, উনবক্সিং, প্রবলেম সল্যুশন ইত্যাদি ধরণের 


ছবি:
UGC দিয়ে তৈরী করা যায়, যেমন ধরুন নতুন পোশাক পরে ছবি, রেটুরেন্ট এ খাবারের ছবি, ঘুরতে যাবার ছবি, স্কিনকেয়ার আগে এবং পরের ছবি ইত্যাদি ধরণের ছবি যা সোশ্যাল মিডিয়াতে বিজ্ঞাপন হিসাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।  

কাস্টমার রিভিউ:
ধরুন আপনার পণ্য কেউ অনলাইন থেকে কিনলো এবং সেটির একটি ভালো রিভিউ অনলাইনে পোস্ট করলো, তাতে অন্য ক্রেতার বিশ্বাসের জায়গা অনেক বেশি বাড়ায়। কিন্তু এগুলো বেশি দেখা যায় বিভিন্ন ওয়েবসাইটে যেমন ধরুন আমাজন, ফ্লিপকার্ট, গুগল রিভিউ, ফেইসবুক রিভিউ ইত্যাদি। 


টেস্টিমোনিয়াল:
কোনো পণ্যের ভালো খারাপ তা ব্যবহারকারীরা দিয়ে থাকে। এতে ব্রান্ডের প্রতি একটি বিশ্বাস এর জায়গা তৈরী করে। 

অনবক্সিং ভিডিও কেমন?
কোনো গ্রাহক যখন কোনো জিনিস অনলাইনে কেনে, এই পণ্যের প্যাকেট খুলে তার প্রথম অভিজ্ঞতা একটা ভিডিও এর মাধ্যমে শেয়ার করে থাকেন। এতে দর্শকের মধ্যে এক কৌতূহল বাড়ায় সঙ্গে ক্রেতার মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলে। 


টিউটোরিয়াল ভিডিও:

একটি পণ্য কিভাবে ব্যবহার করতে হবে সেটার টিউটোরিয়াল হতে পারে, কোনো কিছু সমস্যার সমাধান করা, কিভাবে ভালো কিছু করা যাতে আমাদের অনেক রকমের সুবিধা হবে সেইগুলি একটি টিউটোরিয়াল এর মাধ্যমে ভিডিও মানুষের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া। 


UGC ব্যবহার করে কি কি সুবিধা পাওয়া যায়?
UGC ব্যবহার করে মানুষের মধ্যে অর্থাৎ গ্রাহকের মধ্যে বিশ্বাস টোরি করা যায়, বিক্রির হার বাড়ানো যায়, কোনো রকমের নিজের পণ্য প্রমোশন এর জন্য বড়ো প্রোডাকশন হাউস এর কাছে যাতে হয় না সঙ্গে কোনো সেলেব্রেটি এর প্রয়োজন পড়ে না আরও সহজ ভাষায় বলতে গেলে নিজের পণ্যের প্রমোশন খুব কম সময়ে কম খরচের মধ্যে আমরা আমরা আমাদের পণ্য প্রোমোট করতে পারি। 

বিভিন্ন রকমের সোশ্যাল প্লাটফর্ম গুলিতে UGC ভিডিও বানিয়ে নিজেদের পণ্য প্রমোট করা হয়ে থাকে। 




আশাকরি আমরা আমাদের এই আর্টিকেল এর মধ্যে বোঝাতে পেরেছি যে UGC ব্যবহার, কোথায় ব্যবহার করা হয়ে থাকে এবং কি কি সুবিধা পাওয়া যায়। 

আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ সময় করে আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ার জন্য। এইরকম হেল্পফুল আর্টিকেল আমরা দিয়ে থাকি। এই আর্টিকেল যদি আপনার হেল্প করে থাকে তাহলে আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানাবেন। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ