Elementor all important tools -জেনে নিন

এলিমেন্টর এডিটর কেমন কাজ করে ?

এলিমেন্টর এডিটর যা একটি ওয়েবসাইট তৈরী করতে অর্থাৎ ওয়েবসাইট তৈরির জন্য ড্র্যাগ এন্ড ড্রপ করার সুযোগ করে দেয়। অনেকে মনে করে যে ওয়েবসাইট তৈরির জন্য কোডিং জানা প্রয়োজনীয় কিন্তু এলিমেন্টর অর্থাৎ এডিট এলিমেন্টর ব্যবহার করে ড্র্যাগ এন্ড ড্রপ করে একটি প্রফেশনাল ওয়েবসাইট তৈরী করা সম্ভব।


এডিট এলিমেন্টর অপসন ক্লিক করার পর আপনি লক্ষ্য করবেন বাম দিকে বিভিন্ন উইজেট গুলো থাকে এবং ডান পাশে আমাদের ওয়েবসাইটে যে সমস্ত উইজেট ব্যবহার করার পর ওয়েবসাইট দেখতে কেমন লাগছে অর্থাৎ প্রিভিউ আমরা দেখতে পারবো। 

উইজেট কি কি অর্থাৎ আরও সহজ সরল ভাবে বোঝাতে গেলে টেক্সট, ছবি, বাটন থেকে শুরু করে সমস্ত কিছু। আমাদের ওয়েবসাইটে কি কি উপাদান ব্যবহার করা হয় সেগুলোই হচ্ছে উইজেট। 

সঙ্গে আরও রয়েছে ওয়েবসাইটে কি কালার থাকবে যা কালার পরিবর্তন করা যায়, লেআউট, টাইপোগ্রাফি, বিভিন্ন রকমের অ্যানিমেশন করার জন্য উইজেট রয়েছে এবং আমাদের ওয়েবসাইট যাতে প্রত্যেকটি ডিভাইস এ সুন্দর দেখায় তার জন্য রেস্পন্সিভ করার উইজেট ও রয়েছে। 

যারা নতুন অর্থাৎ যারা কোডিং জানেন না তারাও খুব সহজে তাদের ব্যবসার জন্য খুব সহজে একটি প্রফেশনাল ওয়েবসাইট তৈরী করে নিতে পারবেনএবং যারা ওয়েবসাইট ডিসাইনার তাদের ক্ষেত্রে তো খুব সময় লাগে না খুব কম সময়ের মধ্যে একটি প্রোফেসনাল ওয়েবসাইট তৈরী করে ফেলেন। 

কন্টেইনার:

কন্টেইনার কি যদি এককথায় বলা যায় একটি ওয়েবসাইট এর লেআউট সিস্টেম হল কন্টেইনার। একটি কন্টেইনার ব্যবহার করে তার মধ্যে বিভিন্ন উইজেট ব্যবহার করা হয়ে থাকে যেমন ধরুন বাটন, স্পেসিং, ফর্ম থেকে শুরু করে সমস্ত কিছু ব্যবহার করা হয় একটি কন্টেইনার এর মধ্যে। 

সঙ্গে বিভিন্ন ডিভাইস অর্থাৎ মোবাইল, ল্যাপটপ এবং কম্পিউটার ডিভাইস গুলিতে ডিসাইন কে সুন্দর দেখানোর জন্য রেস্পন্সিভ করা হয়ে থাকে। তার পাশাপাশি একটি ওয়েবসাইটের মডার্ন, প্রফেশনাল এবং পরিষ্কার ডিসাইন করার জন্য এই সমস্ত যা এর মধ্যে সম্ভব এবং ওয়েবসাইটের লোডিং স্পিড উন্নত করে। 

উইজেট:

উইজেট কথার অর্থ কি খুবই সহজ সরল ভাষায় বলতে গেলে এটি এলিমেন্টর এর ব্লক। যেমন ধরুন ওয়েবসাইটের হেডিং একটি উইজেট, ইমেজ, বাটন থেকে শুরু করে সমস্তকিছুই হচ্ছে উইজেট। এলিমেন্টর এর মধ্যে অসংখ্য পরিমানে উইজেট রয়েছে যা ওয়েবসাইটের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। 

এইগুলো বিল্ড করার জন্য কোনো রকমের কোডিং এর জানা প্রয়োজন লাগে না উইজেটগুলো ড্র্যাগ এন্ড ড্রপ করে একটি প্রফেশনাল ওয়েবসাইট তৈরী করা যায়। 

টেমপ্লেট:

এলিমেন্টর এর মধ্যে অনেক ফ্রি টেমপ্লেট রয়েছে যা আগে থেকেই ওয়েবসাইট রেডি করা থাকে। আমাদের ওয়েবসাইটের টপিক অনুযায়ী আমরা সেই টপিক এর উপর টেমপ্লেট খুঁজে ব্যবহার করতে পারি। এবং যদি চাই সেক্ষেত্রে কাস্টোমাইজে ও করতে পারি। 

এতে বেশি সময় লাগে না বরং কম সময়ের মধ্যে আমরা ক্লায়েন্ট এর জন্য খুব কম সময়ের মধ্যে একটি প্রফেশনাল ওয়েবসাইট প্রদান করতে পারি। সঙ্গে কাস্টমারের ইন্সট্রাকশন অনুযায়ী আমরা ওয়েবসাইট ক্লায়েন্ট এর মতো করে এডিট ও করতে পারি। 


থিম বিল্ডার কী:

একটি খুব শক্তিশালী ফীচার যা এলিমেন্টর প্রো এর মধ্যে রয়েছে অর্থাৎ খুব শক্তিশালী একটি ফিচার। এই ফিচার ব্যবহার করে আমাদের ওয়েবসাইটের হেডিং, ওয়েবসাইটের ফুটার, ব্লগ পোস্ট সঙ্গে সার্চ পেজ থেকে শুরু করে ৪০৪ পেজ নিজে থেকে কাস্টোমাইজ করা সম্ভব। 

ওয়ার্ডপ্রেস-এ অনেক ফ্রি থিম অর্থাৎ ডিফল্ট থিম আছে যা নিজে থেকে কাস্টোমাইজ করে সম্ভব এবং কম সময়ের মধ্যে ক্লায়েন্ট কে ডেলিভারি করা যায়। শুধু মাত্র একটি ডিফল্ট থিম এর উপর নির্ভর করা যাবে সেই থিমকে আরও প্রফেশনাল লুক দেওয়ার জন্য কাস্টোমাইজ করা জরুরি। 


পপআপ বিল্ডার কী?

পপআপ কী যদি সহজ সরল ভাষায় বলা যায়, কোনো ওয়েবসাইট ওপেন করার সময় একটি বাক্স চোখের সামনে ভেসে আসে, সেটাই হলো পপআপ। বিশেষ করে এটি লক্ষ্য করে থাকবেন বিভিন্ন নিউজ ওয়েবসাইটের মধ্যে, বিভিন্ন ডিসকাউন্ট এর ক্ষেত্রে বা লিড জেনারেশন ফর্ম এর ক্ষেত্রে লক্ষ্য করে থাকবেন। 

যারা ইমেইল মার্কেটিং বা কোনভারসিওন বাড়ানোর জন্য এই পপআপ বিল্ডার ব্যবহার করা হয়ে থাকে। 


ফর্ম বিল্ডার কী: 

ফর্ম বিল্ডার কী সেটা আমাদের আগে জানা প্রয়োজন অর্থাৎ সহজ সরল ভাষায় বলতে গেলে এই ফর্ম বিল্ডার ব্যবহার করে একটি কন্টাক্ট ফর্ম, রেজিস্ট্রেশন ফর্ম সঙ্গে সুরভাই ফর্ম এবং লিড সংগ্রহ করার জন্য ফর্ম তৈরী করা হয়ে থাকে। 

কেউ যদি ফর্ম ফিলাপ করে তারপর তার ইমেইল এর মধ্যে বিভিন্ন রকমের নোটিফিকশন পাঠানো সম্ভব হয়, সবথেকে বেশি ইমেইল মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে খুবই হেল্পফুল। 


WooCommerce বিল্ডার কী?

বর্তমান মার্কেটে ছোট থেকে বড়ো সবাই তাদের ব্যবসা অনলাইনে নিয়ে যেতে চায় যাতে অনলাইনের মাধ্যমে তাদের ব্যবসা গ্রোথ করে অর্থাৎ ই-কমার্স ওয়েবসাইট বানাতে এই WooCommerce বিল্ডার ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এটা সাধারণত ব্যবহার করা হয়ে থাকে যেখানে কাস্টমার কোনো প্রোডাক্ট পেজে আসবে, শপ পেজ, কার্ট পেজ এছাড়াও চেকআউট পেজ এর ক্ষেত্রে ডিসাইন করতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। 

এতে ব্যবসার গ্রোথ হয় সঙ্গে সেল বাড়ায় এবং একজন কাস্টমারের এক্সপেরিয়েন্স উন্নত করে। এটি ব্যবসার ক্ষেত্রে খুবই পসিটিভ পয়েন্ট।  

ডাইনামিক কনটেন্ট কী?

একই ওয়েবসাইটের মধ্যে কোনো তথ্য বা এলিমেন্ট বা সেকশন স্বয়ংক্রিয় ভাবে চালনা করার জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে অর্থাৎ আরও সহজ সরল ভাষায় বললে একটি ওয়েবসাইটের যেমন ধরুন টাইটেল, লেখকের নাম, ফীচার ইমেজ এবং প্রোডাক্ট এর ইনফরমেশন থেকে শুরু করে ওয়েবসাইটের কাস্টম ফিল্ড ডাইনামিক দেখানোর জন্য এই ফিচার ব্যবহার করা হয়ে থাকে। 

গ্লোবাল কালার এবং ফন্ট কী?

একটি ওয়েবসাইট যত কালার ব্যবহার করা হয়ে থাকুক না কেন তা এই ফিচার ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব যদিও একটি ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে লোগো এর কালার এর উপর নির্ভর করে ওয়েবসাইটের কালার রাখা প্রয়োজন তা আবার ২-৩ তে কালার ব্যবহার করা প্রয়োজন। বেশি কালার ব্যবহার করলে ওয়েবসাইট দেখতে খারাপ লাগে।

ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে কি টাইপোগ্রাফি থাকবে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আরও সহজ সরল ভাষায় বলতে গেলে ওয়েবসাইটের টাইটেল, প্যারাগ্রাফ, বাটন, সাবহেডিং কি ফন্ট ব্যবহার করবো তা সমস্ত কিছু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। 

রেস্পন্সিভ মোড কী?

বর্তমানে মানুষ অনেক উন্নত হয়েছে আগের তুলনায় তেমনি বিভিন্ন রকমের ডিভাইস ও ব্যবহার হয়ে থাকে যেমন ধরুন মোবাইল, ল্যাপটপ কিংবা ডেস্কটপ, ট্যাবলেট ইত্যাদি।  আমাদের ওয়েবসাইট যদি রেস্পন্সিভ হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে আমাদের ওয়েবসাইটের ডিসাইন খারাপ দেখায় বিভিন্ন ডিভাইস-এ অর্থাৎ আমাদের ওয়েবসাইটের লেআউট যাতে খারাপ না দেখায় তার জন্য রেস্পন্সিভ করা প্রয়োজনীয়।

এই ফিচার মাধ্যমে আমি আমরা আমাদের ওয়েবসাইটকে খুব সুন্দর ভাবে রেস্পন্সিভ করা সম্ভব হয়ে ফলে ক্লায়েন্টের ব্যবহারের ইম্প্রেশন ও ভালো থাকে। এটি খুবই গুরুত্বপুর্ণ একটি ফিচার। 

মোশন ইফেক্ট কী?

আমাদের ওয়েবসাইটের এলিমেন্ট গুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যানিমেশন করানোর জন্য এই ফিচার ব্যবহার করা হয়ে থাকে যাতে আমাদের ওয়েবসাইটের আলাদা লুক এনে দেয় এবং দেখতে খুব সুন্দর লাগে।  


কাস্টম CSS:

আমরা আমাদের ওয়েবসাইটকে প্রফেশনাল থেকে আরও বেটার করতে চাই সেক্ষত্রে নিজে থেকে কাস্টোমাইজ করা সম্ভব। যা কাস্টম CSS ফিচার ব্যবহার করে আমাদের ওয়েবসাইটকে আরও নতুন নতুন স্টাইল বা লুক চেঞ্জ করতে পারি। 



আশাকরি আমরা আমাদের এই আর্টিকেল এর মধ্যে বোঝাতে পেরেছি যে আমাদের ওয়েবসাইট তৈরির ক্ষেত্রে যে এলিমেন্টর ব্যবহার করা হয়ে থাকে তার মধ্যে সবথেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ টুলস গুলোর সম্বন্ধে আমরা ধারণা পেয়েছি এই আর্টিকেলের মধ্যে। 

আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ সময় করে আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ার জন্য। এইরকম হেল্পফুল আর্টিকেল আমরা দিয়ে থাকি। এই আর্টিকেল যদি আপনার হেল্প করে থাকে তাহলে আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানাবেন। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ