মানসিক দুর্বলতা-
ধ্যান একমাত্র উপায় মানসিক দুর্বলতা কাটিয়ে মুক্ত জীবনে নিয়ে আসতে পারে। খুব ভোরে ঘুম ওঠে পরিমিত জল খেয়ে প্রাতকৃতঃ সম্পন্ন করে, প্রাণায়াম ও যোগাসনে, অনুলোম বিলোম, কপালভাতি, মোহবদ্ধমুদ্রা, শবাসন, বিপরীত করণীমুদ্রা,ধ্যান নিয়মিত অভ্যাস বাঞ্চনীয়।
খাদ্য- খাঁটি ভাজা দুধ, টাটকা মাছ, দেশী ডিম্, পাকা কাঁঠালি কলা(গাছ পাকা ) বেশি মজা, কুমড়ো, বাঁধাকপি, পটোল ঘরের তৈরী আমসত্ত্ব, আম, জাম, পেয়ারা, প্রভৃতি পুষ্টিকর খাবার একান্ত প্রয়োজনীয়।
বিবেকানন্দ, রামকৃষ্ণদেব, অরবিন্দ রচনাবলী, মহাভারত বিষেশ করে গীতা ও যোগী সম্পর্কিত পুস্তকাবলির নিয়মিত পড়তে হবে।
অম্বল -
সকালে সহজ বস্তিক্রিয়া, বোমনধৌতি প্রধান অবলম্বন অম্বলবোধ বা মুক্তি পাওয়ার জন্য। প্ৰাণায়াম বা যোগাসন যথা অনুলোম বিলম্ব, নাড়ী শোধন ক্রিয়া শীতলী(যদি রোগীর ঠান্ডায় ধাত মা থাকে) বোমনধৌতি, সহজ বস্তিক্রিয়া, যোগমুদ্রা, সর্বাঙ্গসন, মৎস্যাসন, পবনমুক্তাসন প্রতিদিন অভ্যাস করতে হবে।
খাদ্য- কাঁচা পেঁপে, পটল, ঝিঙে, লাউ, কচি বেগুন, থোর হিঞ্চে, নটে, আপেল, খরমুজা, মিষ্টি কমলালেবু, নারকেলের দুধ, শসার রস, জলপাই তেল বেশি করে খাবেন, ভাত খাবেন অতিসিদ্ধ পরিমান মত কখনও পেট ভরে খাবেন না।
পাকস্থলীতে ক্ষত-
ভালো বিশুদ্ধ দুধ এই রোগের পক্ষে সর্বশেষ্ঠ পথ্য। সকালে প্ৰাণায়াম বা যোগাসন যথা সহজ বস্তিক্রিয়া, অনুলোম বিলোম, শীতলী পশ্চিমোত্তাসন, পবনমুক্তাসন হালসন, সর্বাঙ্গসন ও মৎসাসন।
খাদ্য- বিশুদ্ধ খাঁটি দুধ, শাকালু, শশা, জামরুল, মিষ্টি সরবতী লেবু, এক সপ্তাহ বাদে গলিত ভাতের সঙ্গে দুধ, ডাবের জল, পাকা নরম কাঁঠালি কলা বা দেশি মর্তমান কলা। দ্বিতীয় সপ্তাহ বাদে অর্থাৎ তৃতীয় সপ্তাহ থেকে কচি লাউ, পেঁপে, আলু সেদ্ধ কচি বেগুন খেতে দেওয়া যেতে পারে অবস্থা বুঝে।
খুব ভোরে ঘুম থেকে সহজ বস্তিক্রিয়া সেরে প্রাতকৃতঃ সম্পন্ন করে প্রাণায়াম যথাক্রমে কপালভাতি, অশ্বনীমুদ্রা ও আসনের মধ্যে সর্বাঙ্গসন, জানুশিরাসন অভ্যাস করতে হবে।
খাদ্য- এই রোগে প্রথমতঃ অস্বাভাবিক পরিমান জল খেতে হবে। কমপক্ষয়ে ৫ লিটার দৈহিক এছাড়া কাঁচা পেঁয়াজ, পাকা কলা, পাকা পেঁপে(কার্বাইড দেওয়া নয়) শশা রুটি ও প্রচুর পরিমানে কলা খেতে হবে।
বায়ু -
সকালে ঘুম থেকে উঠে ঠান্ডা ও ঈষৎ উষ্ণ গরম জল(দু-গ্লাস ) একটি পাতিলেবু সহযোগে খেতে হবে। এরপর প্রাতকৃতঃ সম্পন্ন করে, প্রাণায়াম যথাক্রমে কপালভাতি এবং আসনাদি- পবনমুক্তাসন, সর্বাঙ্গসন, অগ্নিসার।
খাদ্য - গাছ পাকা বেল (কার্বাইড যুক্ত নয়) না পেলে কাঁচা বেলই উপযুক্ত। গাছ পাঁকা পেঁপে না হলে কাঁচা কাঁচা পেঁপেই শ্রেয়। পটল, ঝিঙ্গা, উচ্ছে, কুমড়া, শশা, পেয়ারা, কিসমিস, মিষ্টি কমলালেবু, চালকুমড়া, মুগডাল, গলাভাত(বেশি ফোটানো না) কখনোই পেট ভর্তি করে খাবেন না।
পুরুষস্ত্বহীনতা-
খুব সকালে ঘুম থেকে ওঠে বস্তিক্রিয়া করবেন। বস্তিক্রিয়ার পর কপালভাতি প্রাণায়াম প্রক্রিয়া রীতিনিয়ম মেনে অত্যন্ত ৫-১০ মিনিট করবেন।
খাদ্য - দুটি কাঁঠালি কলা দিয়ে ২টি হাতে গড়া রুটি খান। একটু বেলায় সামান্য হালকা টিফিন করুন। আর ভাত, মাছ, কুমড়ো, থানকুনি, পটল, কুমড়ো, ডাল(মুশুর) তরিতরকারি, আপেল আঙ্গুর, বেদানা খাবেন। সর্বাঙ্গসন, মৎস্যাসন দ্বারাও অকালে পুরুষত্বহীনতা রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
দাঁতে বেশি রক্ত পড়া-
খুব সকালে উঠে বস্তিক্রিয়া শেষ করুন। তারপর কপালভাতি, সর্বাঙ্গসন, মৎস্যাসন আর একটি কথা মনে রাখবেন মূল মূত্র ত্যাগের সময় উপরের দাঁত নিয়ে নিচের দাঁত চেপে রাখবেন।
খাদ্য- এ রোগের সমাধানের খাবার হলো পেয়ারা, পাতার রস গরম জলে ফুটিয়ে ঐ জলে ৪-৫ বার দাঁত মাজতে হবে। পুষ্টিকর অথচ সহজ পাচ্য এমন টাটকা খাবেন। আর প্রতিবার খাওয়ার পর দাঁত মাঝবেন।
ব্রণ-
খুব সকালে ওঠে বস্তিক্রিয়া সারুন। তারপর সর্বাঙ্গসন, মৎস্যাসন বা ধনুরাসনের যে কোন একটি আসনটি বেছে নিন। এবং তাতেই অভ্যস্ত হোন।
খাদ্য- সহজপাচ্য অথচ পুষ্টিকর খাবার খাবেন। হেলেঞ্চা শাক, পালংশাক, উচ্ছে, পটল, ঝিঙে, কাঁচকলা, বাঁধাকপি, দুধ, কলা, আপেল খান তবে মাংস -ডিম্ বা টক জাতীয় কোন জিনিস খাবেন না।
সর্দি বা ঠান্ডা লাগা -
খুব সকালে উঠে প্রথমে গরম জলে বস্তিক্রিয়া সমাপন করুন। তারপর কপালভাতি, অগ্নিসার, অনুলোম বিলোম প্রাণায়াম। সহজপাচ্য টাটকা খাবার খান।
খাদ্য- দেশি মুরগীর মাংস, রুটি(আটার ) খান। কমলালেবু খান। আদা দিয়ে দুধ ছাড়া লিকার চা খান। তুলসী পাতার রস, মধু সহ সেবনেও ভালো ফল পাবেন। ঠান্ডা কোন খাবার খাবেন না। টাটকা খাবার খাবেন।
উদ্গার -
খুব সকালে উঠে সহজ বস্তিক্রিয়া সারুন। সর্বাঙ্গসন, মৎস্যাসন, অগ্নিসার, পশ্চিত্তসন করুন। খাবার- সহজ পচ্য অথচ পুষ্টিকর গরম মশলা ও জলহীন, শস্যবাটা, পেঁয়াজ-রসুন মিশ্রিত রান্না খাবেন না।
হৃদরোগ-
খুব সকালে উঠে সহজ বস্তিক্রিয়া করুন। শরীরের অবস্থা বুঝে অনুলোম, শবাসন করুন। খাদ্য- পটল, ঝিঙে, বাঁধাকপি, গাজর, মূলো, পালংশাক প্রভৃতি দ্বারা নিরামিষ আহারই হৃদরোগের পক্ষে ভালো। আর আপেল, আঙ্গুর, পেঁপে, ঘোল খেতে পারেন।
স্পন্ডিলাইটিস-
এই রোগের প্রথম লক্ষণ হল কোমড়, ঘাড় ও হাঁটুতে ব্যাথা। আর অসংযমী ইন্দ্রিয় ব্যবহারেই এ রোগটা হয়। এই রোগ নিরাময়ের সহজ উপায় হল খুব সকালে উঠে বস্তিক্রিয়া সেরে অনুলোম বিলোম, ভূজঙ্গাসন করবেন। যদি সম্ভব হয় তবে পবনমুক্তাসন, শলভাসন বা ধনুরাসন করুন এবং ব্যথার স্থানে গরম সেক দিন।
আর ঠান্ডা জলে গরম জল মিশিয়ে স্নান করুন। আর এই রোগে আক্রান্ত হলে অতন্ত একমাস সহবাস করা থেকে বিরত থাকুন।
খাদ্য- সহজপাচ্য অথচ পুষ্টিকর খাবার খাবেন। গরম গরম খাবেন। রসক্ত কোনো জিনিস খাবেন না।
আল্যার্জিটিক রাইন্যাটিস( সর্দি -হাঁচি)-
খুব সকালে উঠে বস্তিক্রিয়া করুন। তারপর কপালভাতি, সূর্যভেদন প্ৰাণায়াম করুন। রোগ নিরাময়ের সহজ উপায় হল ইন্দ্রিয় সংযম। সহবাসের প্রক্রিয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
খাদ্য- কাঁচকলা, পেঁপে, টমেটো, বাঁধাকপি, গাঁজর, বীট, পালংশাক, হেলেঞ্চা শাক, উচ্ছে, করলা খাবেন। পারলে মাছ, মাংস, ডিম্ খাবেন না। কলা, দুধ, চিংড়িমাছ, বোয়াল মাছ, বেগুন খাবেন। কারণ এগুলিতে এলার্জি হয়।
রাতে জল ঢেকে রেখে সেই জল সকালে পান করে মলমূত্র ত্যাগ করুন। তারপর অনুলোম বিলোম, অগ্নিসার, শীতলী, প্রাণায়াম করুন। ভূজঙ্গাসন, মৎস্যাসন, পবনমুক্তাসন করতে পারেন। এ সবের যে কোনো একটিকে বেঁচে নিন।
খাদ্য- সকালে এক গ্লাস বাসি জল খান তারপর এক টুকরো কাঁচা হলুদ, দু চারটে তুলসী পি[পাতা। নিরামিষ আহার করবেন। আর তুলসী পাতা ও নিমপাতা জলে দিয়ে জ্বাল দিয়ে সেইজল স্নান করবেন।
ক্যান্সার-
ক্যানসারের সবচেয়ে যেটা করতে হবে তা হল ইন্দ্রিয় সংযম। সহবাসে লিপ্ত হওয়া যাবে না। অনুলোম বিলোম, সর্বাঙ্গসন, মৎস্যাসন ও ধ্যান করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। খাদ্য- অংকুরিত ছোলা, গাজর, বাঁধাকপি, তুলসী পাতা, গম, ঘাস, প্রভৃতি ক্যানসার রোগের রোগীদের অবশ্যই খাওয়াই উচিত।
অনিদ্রা-
খুব সকালে উঠে বস্তিক্রিয়া করুন। তারপর ধ্যানে বসুন। খাদ্য- মাছ, মাংস, ডিম্ বাদে সহজ পাচ্য নিরামিষ আহার করুন। আর মনে দৃঢতা আনুন।
অজ্ঞতা ও শারীরিক দুর্বলতা কারণেই ভয় নামক বস্তুর কবলে পড়ে মানুষ। এই ভয় কাটাতে ভস্ত্রিকা, কপালভাতি ও ধ্যান করা একান্ত প্রয়োজন। এই ধর্মগ্রন্থ পাঠ মহাপুরুষদের জীবনী পাঠের প্রয়োজন। খাদ্য- সাত্ত্বিক আহার(নিরামিষ) করতে হবে। উত্তেজনা হয় এমন কোন ছবি বা ঘটনা থেকে নিজেকে দূর সরিয়ে রাখতে হবে।
কপালভাতি, অনুলোম বিলোম, নাড়ী শোধন, ও ধ্যান হল মাইগ্রেন রোগের এক মৌহশোধ। খাদ্য- মাইগ্রেন রোগের এক মহৌষধ। খাদ্য- মাইগ্রেন রোগীদের সব সময় মাছ, মাংস, ডিম্, ছানা, ঘি জাতীয় খাবারের চেয়ে বীট. গাজর, পালংশাক, হেলেঞ্চা শাক, ঝিঙ্গে, পটল, কাঁচকলা, পেঁপে, উচ্ছে খেলে ভালো হয়।
প্রথমে খুব সকালে উঠে বস্তিক্রিয়া করুন। তারপর সর্বাঙ্গসন বা ধ্যানাসনে বসে প্রাণায়ামে পেট পরিষ্কার করুন। এতে একাগ্রতা আনলেই কিন্তু মুখশ্রী বৃদ্ধি পায়।
অন্য প্রক্রিয়া- ব্যাসনের মধ্যে ১ চামচ মধু মিশিয়ে গালে মাখুন। তারপর তা ধুয়ে ফেলুন। কাঁচা হলুদ লেবু দিয়ে বেটে তা মুখে মেখে ঘন্টা খানেক পরে মুখ ধুয়ে ফেললে মুখের শ্রী ফেরে। মুসুরির ডাল বেঁটে মুখে মেখে ঘণ্টাখানেক বাদে ধুয়ে ফেললে মুখের শ্রী ফেরে।
**ব্যায়াম বা প্রাণায়াম করার আগে অবশ্যই অভিজ্ঞদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে করবেন**
0 মন্তব্যসমূহ