আমাদের একটি প্রফেশনাল ওয়েবসাইট বানানোর ক্ষেত্রে এলিমেন্টর খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যার মাধ্যমে আমাদের বিভিন্নরকম স্টাইল থেকে শুরু করে একটি আকর্ষণীয় অ্যানিমেশন বানানোর জন্য এলিমেন্টর ব্যবহার করে থাকি।
এখানে যে সমস্ত স্টাইল করা আছে সমস্তকিছু এলিমেন্টর দিয়ে করা। আজকে আমরা জানবো কিভাবে বিভিন্ন রকমের স্টাইল বানাবেন খুব সহজে এলিমেন্টর এর মাধ্যমে।
প্রথমে আমরা ওয়ার্ডপ্রেস লগইন করে নেবো এবং সেখানে থেকে আমরা যে পেজ তৈরী করছি অর্থাৎ যে পেজের উপর আমরা কাজ করতে চাই, সেই পেজ ওপেন করে নেবো। আপনাদের সুবিধার্তে নিচে স্ক্রীনশর্ট দেওয়া রয়েছে।
একটা সেকশন নিতে হবে এবং ব্যাকগ্রাউন্ড কালার রাখতে হবে গাঢ় নীল রং এর স্কিম রাখতে হবে। তার ভেতর টাইটেল এর ওয়াজেদ নিতে হবে সেখানে আপনারা "বেস্ট টাইটেল ফন্ট " টেক্সট দিয়ে দেবেন এবং ওয়ার্ড এর মাঝে <br> ব্যবহার করবেন যাতে একটা টেক্সটটা ভেঙে একে ওপরের নিচে চলে আসে।
এর পরে বাক্স শ্যাডোতে কালার রাখবেন rgba(0, 0, 0, 0.48) এবং নিচে দেওয়া ছবির মতো বলার করে নিন ওই এফেক্টটা আনার জন্য।
এছাড়াও আমরা উধারণস্বরূপ আমরা স্টাইল অর্থাৎ লেআউট ডিসাইন দেখবো, যে এলিমেন্টর কিভাবে হেল্প করে।
সরাসরি কাজের মধ্যে এডিটিং :
আমরা যখন এলিমেন্টর এর মধ্যে পেজ তৈরী করতে থাকি তখন ডিসাইন করার মধ্যে যদি এডিটিং প্রয়োজন হয় তা আমরা সরাসরি এডিটিং করে আবার আমাদের ডিসাইন লাইভ দেখতে পারি। এক্ষেত্রে একটাই সুবিধা আমাদের ডিসাইন এ যে ভুল গুলি ধরা পড়ে তা আমরা সরাসরি কারেকশন করে দিতে পারি, কোনো রকম অসুবিধা ছাড়াই।
এলিমেন্টর এ এই সুবিধা থাকায় আমাদের ওয়েবসাইট বানানোর সময় কম লাগে অর্থৎ কম সময়ের মধ্যে আমরা ওয়েবসাইট তৈরী করে দিতে পারি।
Responsive Design:
বর্তমানে বিশ্বের সবাই বিভিন্ন রকম ডিভাইস ব্যবহার করে থাকেন অর্থাৎ মোবাইল, ল্যাপটপ, কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকেন। যদিও ট্যাবলেট, কম্পিউটার বা ল্যাপটপ এর থেকে বেশি মানুষ মোবাইল ব্যবহার করে থাকেন সেক্ষেত্রে আমাদের ওয়েবসাইট রেস্পন্সিভ থাকা খুবই জরুরি।
আমাদের ওয়েবসাইট যদি রেস্পন্সিভ না থাকে সেক্ষেত্রে মোবাইল কিংবা অন্য ডিভাইস এ ভিসিট করবে তখন বিচ্ছিরি দেখায়। যা ভিসিটর আমাদের ওয়েবসাইটে বেশিক্ষন থাকে না চলে যায়। ওয়েবসাইট রেস্পন্সিভ করতে এলিমেন্টর খুবই হেল্প করে। যা আমরা আমাদের মত করে কন্ট্রোল করতে পারি।
যেকোনো ডিভাইসের জন্য রেস্পন্সিভ করতে এলিমেন্টর ব্যবহার করা হয়। এতে ওয়েবসাইটের লেআউট, ফন্ট, কালার থেকে স্পেসিং পর্যন্ত আমরা আমাদের মতো করে রেস্পন্সিভ করতে পারি। এতে ইউসারের কাছে ইম্প্রেশন ভালো হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের ওয়েবসাইটে থাকে।
Pre-Made Template কী?
অনেক টেম্পলেট যা এলিমেন্টর এর মধ্যে রয়েছে যা আমাদের কোনোরকম পরিশ্রম ছাড়াই খুব কম সময়ের মধ্যে লেআউট, কালার, ফন্ট থেকে শুরু করে স্পেসিং সমস্তকিছু চেঞ্জ করে আমরা ক্লায়েন্টের কাছে ডেলিভারি করতে পারবো।
আরও সহজ সরল ভাষায় বললে, যখন কোন ক্লায়েন্টের আর্জেন্ট ওয়েবসাইট তার প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে আমরা কম সময়ের মধ্যে একটি টেম্পলেট নিয়ে সেখানে এডিটিং করে ক্লায়েন্টকে ডেলিভারি দিয়ে দেওয়া যায় যা সময় বেঁচে যায়।
থিম বিল্ডার কী?
সবচেয়ে শক্তিশালী ফিচার এর মধ্যে একটি হলো থিম বিল্ডার। যদি আমাদের হেডার, ফুটার, সিঙ্গেল পোস্ট আর্চিব পোষ্ট কাস্টোমাইজ করার প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে থিম বিল্ডার ফিচার ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আমাদের প্রয়োজন মতো বিল্ড করতে পারবো।
WooCommerce Builder কী?
যারা অনলাইনে প্রোডাক্ট সেল করে থাকে অর্থাৎ অনলাইন স্টোর খুলে থাকেন সেক্ষেত্রে WooCommerce Builder এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা কেন এতো গুরুত্বপূর্ণ, তা যদি আমরা দেখি একটা প্রোডাক্ট পেজ, কার্ট পেজ, চেকআউট পেজ যা সহজে আমরা কাস্টোমাইজ করতে পারি।
Popup Builder কী?
অনেকসময় আমরা লক্ষ্য করে থাকে কোনো উইজেট উপর ক্লিক করলে আমাদের কাছে ওটা ভেসে আসে। আরও সহজ সরল ভাষায় বললে, যখন আমরা কোনো ডাক্তার এর ওয়েবসাইটে এপয়েন্টমেন্ট অপশনে ক্লিক করি সেক্ষেত্রে একটা ফর্ম আমাদের সমানে বড়ো হয়ে আমাদের সামনে ভেসে আসে সেটাই হলো Popup যা বিল্ড করতে এলিমেন্টর ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
ফর্ম:
কোনো ইউসার যখন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইবে, সেক্ষেত্রে আমরা ফর্মের মাধ্যমে যোগাযোগ করে থাকে উজাররা। সেই ফর্ম বিল্ড করার জন্য এলিমেন্টর ব্যবহার হয়ে থাকে। উধারণস্বরূপ যদি বলা যায় যেমন ধরুন একটি কন্টাক্ট ফর্ম, ওয়েবসাইটের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন ফর্ম, উজারদের ফীডব্যাকফোর্ম তৈরী করার সঙ্গে সঙ্গেও লিড সংগ্রহ করার ফর্ম এর মাধ্যমে তৈরী করা যায়।
গ্লোবাল উইজেট কী?
একটি গুরুত্বপূর্ব যা ওয়েবসাইট তৈরী করতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে সেটি হলো গ্লোবাল উইজেট। যা একাধিক জায়গার ব্যবহার করা হয়ে থাকে ডিসাইন এর জন্য, এই উইজেট এর বিশেষ বৈশিষ্ট হলো যা একজায়গায় পরিবর্তন করলে আর যত পেজে এই উইজেট ব্যবহার হয়ে থাকুক না কেন সমস্ত জায়গার চেঞ্জ হয়ে যায়।
আরও সহজ সরল ভাষায় বললে ডিসাইন এর জন্য এই উইজেট ব্যবহার করা হয়ে থাকে একটি ওয়েবসাইটের যত গুলো পেজে ব্যবহার করা হয়ে থাকুক না কেন, এক জায়গায় চেঞ্জ করলে সমস্ত জায়গায় চেঞ্জ হয়ে যাবে, যার ফলে সময় অনেক বেঁচে যায়।
Motion Effects এবং Animation কী?
আমাদের ওয়েবসাইটের এলিমেন্টর এর সাহায্য বিভিন্নরকম ইফেক্ট এবং অ্যানিমেশন করা হয়ে থাকে যা উজারদের মধ্যে মনোযোগ আকর্ষণীয় করে তোলে।
CSS সাপোর্ট কী?
আমরা জানি ওয়েবসাইট তৈরির ক্ষেত্রে এলিমেন্টর মূলত No-Code পেজ বিল্ডার, তবুও যারা তাদের ওয়েবসাইটকে আরও প্রফেশনাল করে তুলতে চান কোডিং এর মধ্যে, সে ক্ষেত্রেও কোডিং এর মাধ্যমে বিল্ড করা পসিবল হয়।
আশাকরি আমরা আমাদের এই আর্টিকেল এর মধ্যে বোঝাতে পেরেছি যে এলিমেন্টর কতখানি হেল্প করে একটি ওয়েবসাইট পেজ তৈরী করে উইথ আউট কোডিং। আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ সময় করে আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ার জন্য। এইরকম হেল্পফুল আর্টিকেল আমরা দিয়ে থাকি। এই আর্টিকেল যদি আপনার হেল্প করে থাকে তাহলে আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানাবেন।
আবার দেখা হবে নতুন কোনো আর্টিকেলে,ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।
0 মন্তব্যসমূহ