যেসব প্রাণায়াম করলে শরীরের রোগ নিরাময় হয় সঙ্গে খাবারের নিয়মাবলী -(Yoga and Food for your health)

প্রাণায়াম ও খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা:


স্বপ্নদোষ বা সুপ্তস্থলন:

সবারই স্বপ্নদোষ হয়ে থাকে যেটাকে আমরা বলি বয়সের দরুন হয়ে থাকে। একটা বয়স পর্যন্ত হয়ে থাকে ওই বয়স অতিক্রম হয়ে গেলে স্বপ্নদোষ খুব একটা সমস্যা করে না। অর্থাৎ এটি বিশেষ করে দেখা যায় কিশোর ও তরুণ বয়স থেকে এই স্বপ্নদোষ হয়ে থাকে। অনেকে আবার এই বিষয় নিয়ে বলতে লজ্জা পেয়ে থাকেন-কিন্তু স্বপ্নদোষ ডাক্তারের কিংবা চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে দেখলে এটি সাধারণ একটি জিনিস খুব একটা গুরুতর বিষয় নয়। 

আবার স্বপ্নদোষ ঘন ঘন যদি হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে যেসব সমস্যা হয়ে থাকে যেমন ধরুন-শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে, স্মৃতিশক্তি হ্রাস পায় বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীরা পড়া বেশিক্ষন মনে রাখতে পারেন না অর্থাৎ ভোলাভালা মানুষের মতো আচরণ করে, শরীর গলে যায় অর্থাৎ রোগা হয়ে যাওয়া, মানসিক চাপ দেখা যায় সঙ্গে ঘুমের ও সমস্যা আমরা লক্ষ্য করি। 

মাসে দু-একবার স্বপ্নদোষ অর্থাৎ স্বপ্ন দেখে বীর্য ক্ষয় বা স্বাভাবিকভাবেই ঘুমের মধ্যে সুপ্তিস্থলন ঘটে থাকে এর মধ্যে অস্বাভাবিক কিছুই নেই। সহজসরল কোথায় বলতে গেলে এটা স্বাভাবিক জিনিস।  কিন্তু স্বপ্নদোষ ব্যাপারটি নিয়মিত হলে একটু চিন্তার ব্যাপার থেকেই যায়। এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ধ্যান, প্রাণায়াম ও আত্মনিয়ন্ত্রণ খুবই জরুরি হয়।

প্রতিদিন সকালে আমরা যদি নিয়মিত ফ্রেশ হয়ে কিছু সময়ের জন্য গোমুখাসন, প্রাণায়াম, যথাক্রমে মূলবদ্ধ, মহাবন্ধ, কপালভাতি এর অভ্যাস করে থাকি অভ্যাসের ক্ষেত্রে আমাদের স্নায়ুগুলি সবল হয়। স্নায়ু দুর্বল হওয়ার কারণে এইরকম সমস্যা দেখতে পাওয়া যায়।  

গভীর রাতে টিভিতে যৌন উত্তেজকমার্ক সুরসুরি দেওয়া মুভি, বা জনপ্রিয় আইটেম সংগীত যেখানে উজাড় করা দৃশ্য দেখানো হচ্ছে সেগুলো দেখে যৌন সুরসুরির হাতছানি। সারাদিন অফিস কিংবা কাজের পর মাথায় যৌনচিন্তা মেটান পরিহার খাদ্যের ক্ষেত্রে ও সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে। ধরুন খাঁটি দুধ, সপ্তাহে তিনদিনের বেশি ডিম্ খাওয়া যাবে না। 

এবং একই দিনে দুধ ও ডিম্ একসাথে খাওয়া চলবে না।  ডিম্ সম্পূর্ণ খাবার বলে বিবেচিত হলেও প্রাণীজ উচ্চপ্রটিনযুক্ত সম্পূর্ণ খাবার। অধিকাংশ সময় সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে কায়িক পরিশ্রম যাদের মোটেই হয় না, তাদের ডিম্ জাতীয় খাবার শরীরে ফ্যাট হিসাবে বর্ধিত হয়। 

সব্জি ও ফল - কুমড়ো, মোচা, মুগডাল, গাজর, বাদাম বিভিন্ন ফল সহজ পচ্য মশলাবিহীন খাদ্য। ভাত ও রুটি যেটাই খাবেন পেট খালি করে খাবেন। 


হাঁপানি:

ঈষৎ উষ্ণ গরম জল খেয়ে প্রাতঃকৃত সম্পন্ন করে। বমন বা বারিসার ধৌত অভ্যাস করতে হবে। তারপর, যোগাসন বা প্রাণায়াম হিসাবে সর্বাঙ্গসন, মৎসাসন, উস্ট্রাসন ও কপিলাবতী সকালে বিকালে দু'বেলা করতে হবে। 

প্রথমদিকে অবশ্য কপালভাতিতে অসুবিধা হবে। 

হাপানি টানের সময় (তীব্রতর হলে) লেবুর রস ও ঈষৎ গরম জলে পান করতে হবে। উপবাস থাকা বাঞ্চনীয়। খাবার সব সময় খালি পেট অবস্থায় খেতে হবে। দুধ কম খাবেন বা খাবেন না  যদি খানও তবে শুকনো আদা গুড়ো করে মিশিয়ে অল্প খাবেন। গরম কফি মাঝে মাঝে খাবেন তবে নিয়মিত নয়। 

ফল ও সব্জি - মিষ্টি কমলালেবু, আপেল, পিঁয়াজ, রসুন, আদা, পাতিলেবু, লবঙ্গ, কডলিভার মাছের তেল, বাঁধাকফি, গাছ পাকা টমেটো অল্প খাবেন। হাইব্রিড টমেটো খাবেন না কারণ ইফ্রেল নামক বিষ দিয়ে টমেটো পাকানো হয়। 

সূর্যের আলো গায়ে লাগলে খুবই উপকার হয়। অত্যধিক যৌন সঙ্গম এই রোগ বৃদ্ধির কারণ অতএব হাঁপানীর সময় নারী পুরুষ উভয়েই সংযত থাকবেন। পেট ভরে খাবেন না সবসময় পেট খালি রেখে খাবেন। রাতের খাবার ৮টার মধ্যে খেয়ে দশটার মধ্যেই শুয়ে পড়লে খুবই ভালো হয়। গভীর রাত জেগে টিভি না দেখলেই ভালো এতে এই রোগে দ্রুত আরোগ্য সম্ভব।  


ডায়াবেটিস বা মধুমেহ:

অতিরিক্ত ভোগ ও দুশ্চিন্তা কারণে এই রোগের উৎপত্তি। সকালে ঘুম থেকে উঠে সকালের কাজ কমপ্লিট করে যোগাসন যথা জানুশিরাসন, পশ্বিমত্তাসন অগ্নিসার এবং প্রাণায়াম এ মূলবদ্ধ ও মহাবদ্ধ, কপালভাতি সঙ্গে সঙ্গে দৈহিক ভোরে দীর্ঘপথ হাঁটা ও খালি হাতে ব্যায়াম এই রোগে আরোগ্যের মূলমন্ত্র যেহেতু এই রোগ অতিরিক্ত ভোগ ও দুশ্চিন্তার রোগ এতএব প্রথমে অতিরিক্ত আহার ও যৌন সম্ভোগ দীর্ঘদিনের জন্য বিরতি দিতে হবে। 

খাবার -

চাকিতে পেষাই ছোলা ও গম মেশানো আটা বা সয়াবিন ও গম মেশানো আটার রুটি, বাড়িতে পাতা টক দই, টক জাতীয় ফল, প্রচুর শাকসবজি, নারকেল, বেগুন, তেলাকুচা, উচ্ছে, লাউ, পটল, শশা, গাছ পি[পাকা টমেটো, কালজাম, মোচা থোর ভাত খাবেন। 

ভাত অবশ্যই পরিমান মত অর্থাৎ শুধুমাত্র উক্ত রোগে বিবেচনা করে নয় স্বাভাবিক ভাত খাওয়া সবার প্রয়োজন অর্থাৎ খাওয়ার পর পেট খালি থাকবে, লেটুস, থাকুনই, বেতো ধনেপাতা, মেথিশাক, মেথিগুরো, আদা এই রোগে একমাত্র পথ্য। মেথি রোদে শুকিয়ে গুঁড়ো করে মাঝে মাঝে খাবেন। কাজুবাদাম ও অল্প চীনাবাদাম বিশেষ উপকারী।  ছোট মাছ (অবশ্যই টাটকা) মৌরালা, পুঁটি, ইত্যাদি আমিষাষীরা খাবেন। 


মোটাপন বা অযথা শরীরে মেদ বৃদ্ধি :

যদি সারাদিন ফলের রস খেয়ে কাটিয়ে দেওয়া যায় তাহলে এর থেকে ভালো দাওয়াই (মেদ ঝরাতে) আর কিছুই নেই। 

খুব ভোরে উঠে প্রাতঃকৃত সম্পন্ন করে প্রাণায়াম যথা, কপালভাতি, মুদ্রা যোগাসনে, বিপরীত করণী মুদ্রা ভূজঙ্গাসন, ধনুরাসন, পবনমুক্তাসন এবং খালি হাতের ব্যায়াম অভ্যাস একান্ত প্রয়োজন। শারীরিক পরিশ্রম যে কোন উপায়ে খুবই প্রয়োজন সঙ্গে সঙ্গে খাদ্য খাবার বিশেষ করে ঘরে ও বাইরে বিভিন্ন ভাজাভুজি ও তথাকথিত ফাস্ট ফুড খাবার একান্তভাবে তাজ্য। 

সকালে অংকুরিত ছোলা, ফলের রস, আপেল, আনারস, আটার রুটি(ভুশিশুদ্ধ অর্থাৎ না চালা), পাতিলেবু, কমলালেবু, বেল, ডালিয়া, প্রচুর শশা, পালং শাক , বাঁধাকপি, ডাল সপ্তাহে তিনদিনের বেশী, মাছ নয় তবে প্রতিবারই ১০০ গ্রাম ওজন না ছাড়ায়। দিনে একবার ভাত ও একবারই রুটি অবশ্যই পেট খালি করে পরিমান মত(কঠোর ভাবে) খেতে হবে। 


অর্শ :

সকালে দু-গ্লাস থেকে চার গ্লাস জল (ঠান্ডা ও ঈষৎ উষ্ণ গরম) অর্থাৎ ৫০০ থেকে ১০০ গ্রামের মধ্যে একটি পাতিলেবু সহযোগে খেয়ে প্রাতঃকৃত সম্পন্ন করতে হবে। প্রাণায়াম যথা কপালভাতি, অশ্বনিমুদ্রা, যোগাসনের মধ্যে ভূজঙ্গাসন, ধনুরাসন, পবনমুক্তাসন নিয়মিত অভ্যাস করতে হবে। 

খাদ্য ও খাবার- সব্জির মধ্যে ওল একটি উপকারী তরকারি। এছাড়া মানকচু, পাকা পেঁপে না হলে কাঁচা পেঁপেই ভালো। পটল, ডুমুর, চালকুমড়ো, মুলা, লাউ, উচ্ছে, মোচা, হেলেঞ্চা শাক, পরিমাণমতো গলা ভাত যা মলমূত্র ত্যাগের সময় অন্তরায় বা কোত দিতে না হয়। এক্ষেত্রে ভুষি সহ আটার রুটি ও ভালো ফল দেয়। অতিরিক্ত ঝালমশলা বিহীন খাবার এই রোগের বিশেষ তথ্য। 

মাছ, মাংস বিশেষভাবে বর্জনীয়। তবে দৈহিক নিয়ম করে দুপুরে ঘরে পাতা টক দই(৫০০) গ্রাম এর ঘোল বিশেষভাবে ফল দেয়। 


মাসিক গন্ডগোল:

মা, বোনেদের এই দুরবস্থার জন্য প্রথম সতর্কতা রাত জেগে টিভি দেখা ও বিকৃত যৌন সুখ একান্তভাবে বর্জনীয়। মাসিকের পিরিয়ডের ভারী জিনিস তুলবেন না। ঠান্ডা যাতে না লাগে সেদিকেই বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে। 

সকালে প্রতিদিন প্রাতঃকৃত সম্পন্ন করে প্রাণায়াম যথা অনুলোম-বিলোম, কপালভাতি(যখন রক্তস্রাব বন্ধ থাকবে) যোগাসনের মধ্যে বিপরীতকরণী, মৎস্যাসন, ভূজঙ্গাসন নিয়মিত অভ্যাস করতে হবে। 

খাদ্য- কাঁচকলা, ডুমুর, পটোল, মোচা, থর, পুরানো চাল কুমড়ো, বেগুন, ঢেঁড়স, বাঁধাকপি, উচ্ছে, হেলেঞ্চা, ফলের ক্ষেত্রে কমলা, আপেল, পাকা কাঁঠালি কলা, অংকুরিত সবুজ মুগ ভাত, দুধ, রুটি, মাছ(১০০ গ্রাম) ভাত বা রুটি যখন খাবেন, পেট খালি রেখে খাবেন। প্রতি আসন বা প্রাণায়ামের সহিত পরিমিত আহার না করলে আসন বা প্রাণায়ামের কোন সঠিক ফল দেয় না। 


**ব্যায়াম বা প্রাণায়াম করার আগে অবশ্যই অভিজ্ঞদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে করবেন**

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ