Why are contemporary Bengali articles disappearing?-(সমসাময়িক বাংলা প্রবন্ধগুলো কেন হারিয়ে যাচ্ছে?)

আর্টিকেল কেন হারিয়ে যাচ্ছে গুগল থেকে?

আজকাল সময়ে অনেক ব্লগারের মনে একটাই প্রশ্ন যে -যেকোনো কনটেন্ট রাইটার্স দের মাথায় ঘোরে একটাই প্রশ্ন - ভালো কনটেন্ট পোস্ট করার পরেও কেন গুগলের সার্চ ইঞ্জিনের মধ্যে Rank এ আসে না।


আবার অনেকে রাত জেগে অনেকে সুন্দরভাবে আর্টিক্যাল লিখে, SEO ও করে কিন্তু সঠিক ট্রাফিক পায় না। আমরা যদি দেখি কয়েক বছর আগে যেমন নিয়ম কাজ করতো, এখন তা একেবারেই বদলে গেছে।  

যদিও গুগল শুধুমাত্র ভালো লেখা দেখে না বরং পুরো ওয়েবসাইটের কনটেন্ট কোয়ালিটি চেক করে। এমনও সময় ছিল যেখানে শুধুমাত্র কীওয়ার্ড সঠিকভাবে ব্যবহার করলেই যেকোনো আর্টিকেল গুগল Rank এ চলে আসতো। তখনও কিন্তু কিছু ছোট ছোট ব্লগও অনেক ভালো ওয়েবসাইট কেও হারিয়ে দিতো। কিন্তু এখনকার পরিস্থিতি একেবারে আলাদা হয়ে গেছে। 

আগের থেকে গুগল আরও বেশি স্মার্ট হয়ে গেছে। গুগল এতটাই অ্যাডভান্স হয়ে গেছে যে সহজেই বুঝতে পারে কোনটা মানুষের জন্য আবার কোনটা শুধুমাত্র Rank পাওয়ার উদ্দেশে লেখা। 

এবার ধরুন আপনি যেকোনো টপিক বেছে নিয়ে দারুন একটি আর্টিকেল লিখে ফেলেছেন। সেখানে সমস্ত রকম তথ্য দিয়ে সুন্দর ভাবে ডিসাইন করে SEO ও যথাযথভাবে করেছেন। এবার আপনি গুগলের সার্চে বক্সে গিয়ে সার্চ করার পরে দেখলেন প্রথম পেজ-এ সেখানে অন্যদের বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে শুরু করে ভিডিও দখল করে বসে রয়েছে। 


তখন আপনার কাছে ভালো কনটেন্ট থাকার সত্ত্বেও সেটি সঠিক মানুষের কাছে পৌছাচ্ছে না। এখানেই আপনি লক্ষ্য করবেন বাস্তব SEO-এর বাস্তবতা। 

যদিও আজকের দিনে গুগল শুধুমাত্র সুন্দর আর্টিকেল দেখে না, সে দেখে যেকনো আর্টিকেল হোক না কেন তার লেখার উপর ভিত্তি করে মানুষ কতটা বিশ্বাস করে। এই কারণই বড় বড় ব্র্যান্ডগুলো সবসময় এগিয়ে থাকে। কারণ তাদের মানুষ আগে থেকেই চেনে যার জন্য এইসমস্ত ব্র্যান্ডগুলো সবসময় এগিয়ে থাকে। নিয়মিত তাদের ওয়েবসাইটে ট্রাফিক আসে, আর্টিকেলগুলো শেয়ার করে, মধ্যে অন্য ওয়েবসাইটের লিঙ্ক দিয়ে থাকে। 

মানুষ তাদের উপর বিশ্বাস রাখার জন্য, গুগল তাদেরকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। 

বর্তমানে SEO-তে E-E-A-T(অর্থাৎ -Experience, Expertise, Authoritativeness & Trustworthiness) এটাকে সহজসরল ভাষায় বললে, গুগল এখন পুরো আলাদা ধরণের কনটেন্ট আনতে চাইছে, যে কনটেন্ট এ থাকবে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে, আপনি যেকোনো টপিক এর উপর কনটেন্ট লিখুন না কেন সেখানে আপনার যেন সত্যিকারের জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে আর্টিকেলটি থাকে, যেখানে মানুষ পড়ে বিশ্বাস করবে।  

যদি সহজসরল ভাষায় বোঝানোর জন্য বলি, ধরুন আপনি কোডিং এর উপর একটি কনটেন্ট লিখলেন কিন্তু বাস্তবেই আপনি কোনো কোডিং জানেন না, সেক্ষেত্রে গুগল সেটি বুঝতে পারে। 

অন্যদিকে যদি দেখি আপনি কোডিং জানেন এবং আপনার অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে আপনি কনটেন্ট লিখিয়েছে সেক্ষেত্রে আপনার কনটেন্ট এই ভালো খারাপ দুটোই তুলে ধরা আছে। সেই কনটেন্ট এ  বেশি বাস্তব অভিজ্ঞতার একটা ছাপ রয়ে থাকে। 

অনেকর ক্ষেত্রেই আমরা লক্ষ করি গুগল সার্চ ইঞ্জিনে খুব নিম্ন মানের আর্টিকেল ও Rank করে থাকে। আমাদের কাছে ভালো আর্টিকেল থাকার সত্ত্বেও এগুলো দেখার পর অনেকেই হতাশ হয়ে পড়ি। কিন্তু গুগল-এ Rank করার কারণ হলো ভালো মানের "ডোমেইন" যা একটি ওয়েবসাইটকে ভালো Rank এ আনতে অনেক সাহায্য করে, আর যদি অনেক পুরনো হয় কোনো ওয়েবসাইট সেক্ষত্রেও মানুষের বিশ্বাস ও বাড়ে। 

গুগল আরেকটি বড় পরিবর্তন নিয়ে এসেছে যেটা হচ্ছে AI-এর কারণে- যার জন্য কোনকিছু ছোট প্রশ্ন করলে গুগল AI তার উত্তরও দিয়ে দিচ্ছে যার ফলে মানুষ যেখানে পুরো আর্টিকেল পড়তো সেখানে খুব সহজে উত্তর পেয়ে যাচ্ছে।  

গুগল AI আসার কারণে সবথেকে বেশি অসুবিধায় পড়ে ইনফর্মাশনভিত্তিক আর্টিকেলগুলো। যার ফলে ব্লগারদের আর্টিকেল গুলোতে খুব বেশি ট্রাফিক আসে না-যেখানে গুগল AI সমস্ত উত্তর দিয়ে দিচ্ছে। 

আমাদের মধ্যে একটাই প্রশ্ন -তাহলে কি ব্লগিং এর ভবিষ্যৎ শেষ?

যদি এক কথায় বলা যায়-একদম না। এখন আর্টিকেলের পুরো ধরণই বদলে গেছে।  আগে শুধুমাত্র তথ্য দিলেই হয়ে যেত কিন্তু এখন প্রতিটি আর্টিকেলে "নতুনত্ব গুরুত্ব" দিতে হবে। এমন ভাবে আর্টিকেলগুলো সাজাতে হবে যেখানে অন্য কেউ দেয়নি। এখন প্রত্যেক মানুষের টেস্ট পাল্টেছে যেখানে শুধুমাত্র ভিত্তি করে নয়, বরং অভিজ্ঞতা থাকবে, গল্প আর বাস্তব সমস্যা গুলো থাকবে।   


এবার ধরুন যেকোনো টপিক এর উপর কোনো আর্টিকেল লিখলেন, এবং সেই আর্টিকেলে কিন্তু সাধারণ কিছু তথ্য দিলে হবে না। এই কারণে ওই তথ্য হাজারো ওয়েবসাইটে রয়েছে কিন্তু যদি আপনি ভালো খারাপ, বাস্তব কৌশল নিজের অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে ওই আর্টিকেলটি লেখেন মানুষ বেশি পছন্দ করবে।  

গুগল আগের থেকে এতটাই অ্যাডভান্স হয়ে গেছে যে আপনার আর্টিকেল এ মানুষ কতক্ষন থাকছে এবং আপনার আর্টিকেল পড়ছে কিনা, দ্রুত আপনার আর্টিকেল থেকে বের হয়ে যাচ্ছে কিনা- সমস্ত রকম গুগল গুরুত্ব দিয়ে থাকে। আপনার ওয়েবসাইট তখনই গুগল Rank থেকে নেমে যাবে, যখনই মানুষ আপনার আর্টিকেল পড়তে আগ্রহ না থাকে। 

বর্তমানে প্রত্যেকটি ওয়েবসাইট এর স্পিড অনেক বেশি প্রভাব পড়ে, যদি ধীরগতি আপনার ওয়েবসাইট হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে মানুষ পছন্দ করে না, মানুষ খুব তাড়াতাড়ি রেজাল্ট চায় যদি সেটা না হয় তাড়াতাড়ি ভিসিটর চলে যাবে আপনার ওয়েবসাইট থেকে।  

মোবাইলের ব্যবহার এতটাই বেড়েগেছে যে মোবাইলের মাধ্যমে বেশির ভাগ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন। মানুষ মোবাইলের মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইট যখন প্রবেশ করবে সেখানে যদি আপনার ওয়েবসাইট মোবাইলেই ভালো না চলে, সেক্ষেত্রেও আপনার ওয়েবসাইট SEO-তে Ranking-এ পিছিয়ে পড়ে। 

বর্তমান সমাজে অনেক কনটেন্ট ক্রিয়েটর আছেন যারা সেই পুরানো ধাঁচে SEO করে থাকেন- যেমন ধরুন প্রতিটি আর্টিকেলে অতিরিক্ত কীওয়ার্ড ব্যবহার করা থেকে শুরু করে অপ্রয়োজনীয় ব্যাকলিঙ্ক তৈরী করা। কিন্তু গুগল এতটাই অ্যাডভান্স হয়ে গেছে যে এ সবকিছু খুব সহজে ধরে নিতে পারে। উল্টে ব্লগারদের ক্ষতি হয়ে থাকে। 

আজকের দিনে গুগল এমনকিছু কনটেন্ট আনতে চায় যেখানে মানুষের কাজে লাগবে। শুধুমাত্র গুগল সার্চ ইঞ্জিন-এ Ranking-এ প্রথম আসার জন্য নয়, আজকের কনটেন্ট কিন্তু আগের মতো কাজ করে না। 

অনেক কনটেন্ট ক্রিয়েটর তাদের আর্টিকেল-এ সাজিয়ে খুব দ্রুত ফলাফলের আশা করে থাকেন। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে SEO হল একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। একটা ভালো ওয়েবসাইট মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হতে কয়েক বছর সময় লেগে যায়। 

এখন যদি দেখি ভিডিও ক্রিয়াটারের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে জনপ্রিয়তা। বর্তমানে সমাজে মানুষ একটা ভালো আর্টিকেলের পরিবর্তে ভিডিও দেখতে ভালোবাসে। তেমনি যারা আর্টিকেল লেখেন তাদের ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়ানোর জন্য সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করে থাকেন। 

আপনার আর্টিকেল যদি একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করা থাকে, গুগল তা সহজে বুঝতে পেরে যায়, যা Ranking অনেক হেল্প হয়। 

বর্তমানে যদি কোনো ভাইরাল কনটেন্ট এর উপর আর্টিকেল লিখে থাকেন সেক্ষেত্রে সাফল্য পেতে অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক নতুন নতুন কনটেন্ট রাইটার তাদের আর্টিকেল লেখার সময় একটা বড় ভুল করে থাকে-অন্য আর্টিকেল কে কপি করে থাকে। যদি সহজসরল ভাষায় বলা যায় নতুন কিছু থাকে না। যেটা আগে থেকে রয়েছে গুগল-এ। 

একজন সফল ব্লগার শুধুমাত্র তাদের আর্টিকেলে তথ্য থাকে না বরং ভিসিটরদের মধ্যে ইন্টারেস্ট যাতে জাগে সেইভাবে প্রেসেন্ট করে থাকে, ভিসিটর তাদের আর্টিকেলে এসে অনেকেক্ষন থাকে ফলে Ranking চান্স অনেক বেড়ে যায়। 


প্রত্যেক আর্টিকেলে একদম আলাদা লেভেলের প্রেসেন্ট করতে হবে যেখানে অন্য কোথাও নেই। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ