New yoga for your health - শরীর সুস্থ রাখার জন্য নতুন ১০ টি ব্যায়াম

পূর্ণচক্রাসন :


চক্রাসন ভালোভাবে অভ্যাস হলে হাত ও পায়ের মাঝে দূরত্ব কমানোর চেষ্টা করতে হবে। হাত, পায়ের কাছাকাছি এনে হাতের আঙ্গুল পায়ের গোড়ালি ছুঁয়ে থাকলে হবে পূর্ণচক্রাসন। এই অবস্থায় কনুই ভাঙবে না। ৩০/৪০ সেকেন্ড করে ৩/৪ বার করুন। 

উপকারিতা:

চক্রাসনের সমস্ত উপকারিতাই এই আসনে আরও ভালোভাবে পাওয়া যায়। 

ভূজঙ্গাসন:
উপুড় হয়ে শুয়ে দু'হাত বুকের দু'পাশে মাটিতে রাখুন। হাতে ভর না দিয়ে মাথা ও বুক যতটা সম্ভব তুলে ওপরের দিকে তাকান। দু'পা জোড়া ও সোজা থাকবে। প্রতিবার ৩০/৪০ সেকেন্ড করে ৪/৫ বার অভ্যাস করুন। শ্বাস স্বাভাবিক থাকবে। বেশ কিছুদিন অভ্যাসের পর দু'হাত মাটি থেকে তুলে কাঁধের কাছাকাছি এনে অভ্যাস করা যেতে পারে। এই আসনের পরে শলভাসন অভ্যাস করলে সর্বাঙ্গের সুন্দর ব্যায়াম হয়। 


উপকারিতা:

দেহের উর্ধাংশের এটি ভালো ব্যায়াম হয়। আমাদের সাধারণ কাজকর্ম, চলাফেরায় কখনও পিছন দিকে বাঁকতে হয় না; পক্ষান্তরে অধিকাংশ কাজই করি সামনে ঝুঁকে। যার ফলে, আমাদের অজান্তেই মেরুদন্ড সামনের দিকে কিছুটা ঝুঁকে পড়ে। এই আসনটি নিয়মিত অভ্যাসে মেরুদন্ড সামনের দিকে ঝুঁকে যাওয়ার প্রবণতা বাধাপ্রাপ্ত হয় ও কুজোভাব দূর করে। 

যাঁরা দীর্ঘসময় একভাবে বসে বা সামনে ঝুকেঁ পড়াশোনা বা অন্যান্য কাজকর্ম করেন, তাঁদের পক্ষ্যে অবশ্য এই ব্যায়ামটি করণীয়। কোমর, পিঠ, ঘাড় ও কাঁধের জড়তা দূর করে বুকের গঠন সুন্দর হয়। কোমরের বাতও ব্যথা আরোগ্যের সহায়ক। 

পেট ও তলপেটে প্রচন্ড টান পড়ায়, হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। সার্ভাইক্যাল স্পন্ডিলাইটিসে উপকারী।  


শলভাসন:
উপুড় হয়ে শুয়ে হাতের তালু মেঝের দিকে করে দু'হাত ঊরুর নীচে রাখুন, কনুই যেন না ভাঙে। দু'হাত জোড়া ও সোজা রেখে দু'পা মাটি থেকে এক/দেড় ফুটের মত তুলুন। পায়ের আঙ্গুল বেশ টানটানভাবে রাখুন। চিবুক মাটিতে ঠেকে থাকবে। ২০/২৫ সেকেন্ড করে ৪/৫ বার করুন।  শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে।  



উপকারিতা:

কোমরে বেশ চাপ পড়ে এবং দেহের নিম্নাংশের সুন্দর ব্যায়াম হয়। কোমরের ব্যথায় এই আসন খুবই কার্যকরী। লাম্বার স্পন্ডিলাইটিস ও স্লিপড ডিস্ক সারাতে সাহায্য করে। পায়ের জোড় বাড়ে। সায়াটিকার ব্যথা আরোগ্য হয়। পেট, পিঠ ও কোমরের গঠন ভাল হয়; অতিরিক্ত মেদ কমায়। 

পেট ও বুকের মাঝখানে অবস্থিত মধ্যছন্দা (ডায়াফ্রাম) পর্দায় কাজ ভাল হওয়ায় পেট ও বুকের অভ্যন্তরস্থ যন্ত্রাদির কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, হজম ভাল হয়। ভূজঙ্গাসন ও শলভাসন মেয়েদের পক্ষ্যে বিশেষ উপকারী। 

একপদ শলভাসন:
উপুড় হয়ে শুয়ে শলভাসনের মত দু'হাত ঊরুর নীচে রাখুন। হাঁটু না ভেঙ্গে বাঁ পা এক/দেড় ফুট তুলুন। ডান পা মাটিতে সোজাভাবে থাকবে। অনুরূপভাবে পা বদল করে অভ্যাস করুন। শ্বাস স্বাভাবিক রেখে প্রতিবার ৩০/৪০ সেকেন্ড থাকুন। প্রত্যেক পায়ে ৩ বার করে মোট ৬ বার করুন দু'পা একসাথে তুলে শলভাসন করতে অসুবিধা হলে প্রথম দিকে একপদ শলভাসন করা যেতে পারে। 


উপকারিতা:

একপদ শলভাসন অভ্যাসে শলভাসনের উপকারিতা অনেকাংশে পাওয়া যায়। 


নাভি আসন:
উপুড় হয়ে শুয়ে দু'হাত মাথার দিকে সোজা মেলে দিন। দু'হাত ও দু'পা টানটান ও সোজা রেখে যতটা সম্ভব ওপরে তুলুন। হাঁটু ভাঙবে না দু'হাত কানের পাশে লেগে থাকবে। মাথা যেন বেশী উঠে না যায়। শ্বাস- প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে ৩০ সেকেন্ড করে ৪/৫ বার করুন। 



উপকারিতা:

পেট, তলপেট, কাঁধ ও কোমরের ভাল ব্যায়াম হয়। অতিরিক্ত মেদ কমাতে সাহায্য করে। মেরুদণ্ডের নমনীয়তা বৃদ্ধি পায়। 


ধনুরাসন:

উপুড় হয়ে শুয়ে হাঁটু ভেঙ্গে দু'হাতের সাহায্যে গোড়ালির কাছে চেপে ধরুন। ধীরে ধীরে মাথা, বুক ও পা মাটি থেকে তুলুন।  মাথা যতটা সম্ভব পিছন দিকে নিন। দু'পা ও হাঁটু জোড়া রাখার চেষ্টা করুন। ৩০/৪০ সেকেন্ড করে ৩/৪ বার করুন। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে। 



উপকারিতা:

ভুজঙ্গাসন, শলভাসন ও ধনুরাসন নিয়মিত অভ্যাসে সর্বাঙ্গের সুন্দর ব্যায়াম হয়। মেরুদন্ড সংলগ্ন স্নয়ু-পেশী শক্তিশালী হয়। মেরুদণ্ড সংলগ্ন স্নায়ু -পেশী শক্তিশালী হয়। মেরুদণ্ডের নমনীয়তা বৃদ্ধি পায়। পেট ও কোমরের অতিরিক্ত চর্বি কমে। লিভার, প্যাংক্রিয়াস, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদান্ত্র প্রভৃতির কাজ সুষ্ঠভাবে সম্পাদিত হয়। 

কিডনি ও এন্ড্রিনাল গ্রন্থি অধিক কর্মক্ষম হওয়ার সমগ্র দেহে রক্ত সঞ্চালনের উন্নতি হয়। ঘাড়, কাঁধ , হাত ও পায়ের গঠন ভাল হয়। বুকের বেষ্টনীর আকার বাড়াতে সাহায্য করে।  মেরুদণ্ডের কুজোভাব দূর করে। 

অর্ধ চন্দ্রাসন:

সোজা দাঁড়িয়ে গোড়ালি জোড়া করে দু'হাত মাথায় উপরে তুলুন। হাত কানের সাথে লেগে থাকবে। আস্তে আস্তে দেহ ছবির মত পিছনে বাঁকিয়ে দিন। কোমর থেকে হাতের আঙ্গুল পর্যন্ত ভূমির সমান্তরালে থাকবে।  শুরুতে প্রতিবারে ১০/১৫ সেকেন্ড পরে ৩০ সেকেন্ড করে ৩/৪ বার করুন। 




উপকারিতা:

এই আসনটি অভ্যাসে এড্রিনাল গ্রন্থি ও কিডনির কাজ ভাল হয়। রক্ত পরিস্রাবন ঠিকমত হয়। কিডনির গোলমালজনিত রোগ সহজে হয় না।  পায়ের কোমরের ও বুকের গঠন ভাল হয়। অতিরিক্ত চর্বি কমিয়ে দেহকে বেশ হাল্কা ও লঘু (slim) করে। পায়ের জোর বাড়ে এবং দৈহিক ভারসাম্য বৃদ্ধি পায়। কোষ্ঠবদ্ধতা দূর করে। 

পদহস্তাসন:
গোড়ালি জোড়া রেখে দাঁড়িয়ে দু'হাত মাথার উপর তুলুন। আস্তে আস্তে সামনে ঝুঁকে গোড়ালির কাছে হাত রেখে পেট ও বুক ঊরুর সাথে লাগাবার চেষ্টা করুন। কপাল হাঁটুর নীচে পায়ে ঠেকে থাকবে; হাঁটু ভাঙবে না। দু'হাত কনুই হাঁটু-সংলগ্ন রাখুন। ৩০ সেকেন্ড করে ৩/৪ বার করুন।  



উপকারিতা:
পা থেকে মাথা পর্যন্ত সর্বাঙ্গের স্নায়ু ও পেশীর ব্যায়াম হয়। মেরুদন্ড নমনীয় হয়, কোমরের জড়তা দূর করে। যাঁদের দেহের নিম্নাংশের তুলনায় উর্ধাংশ ছোট বা বড় , এই আসনটি অভ্যাস সামঞ্জস্য ফিরে আসবে।  যাঁদের পায়খানা পরিষ্কার হয় না, সকালে দু'গ্লাস জল খেয়ে পদহস্তাসন ও অর্ধচন্দ্রাসন কয়েকবার অভ্যাস করলে উপকার পাবেন।  

যকৃৎ, প্লীহা ও প্যাংক্রিয়াসের কাজ ভাল হয়। রক্তাপ্লতা রোগ আরোগ্য সহায়তা করে। তলপেটের অপ্রয়োজনীয় মেদ কমায়।  উচ্চতা বৃদ্ধির সহায়ক। মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় শীর্ষাসনের উপকারিতা আংশিকভাবে পাওয়া যায়। 

হলাসন:

চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ুন। হাতের চেটোতে ভর দিয়ে দু'পা একসাথে আস্তে আস্তে তুলে মাথার পিছন দিকে যতটা সম্ভব দূরে মাটিতে ঠেকান। পায়ের আঙ্গুল বেশ টানটানভাবে থাকবে; হাঁটু ভাঙ্গবে না। দু'হাত ছবির মত মাটিতে পেতে রাখুন। চিবুক বুকে ঠেকে থাকবে। স্বাভাবিক শ্বাস প্রশ্বাসে ৩০/৪০ সেকেন্ড করে ৩/৪ বার করুন। 



উপকারিতা:

টনসিলের দোষ সারাতে হলাসন বিশেষ কার্যকরী। এই আসনে থাইরয়েড গ্রন্থির কাজ ভাল হয়। দেহের পশ্চাৎভাগের পেশী প্রসারিত হয়, মেরুদণ্ডের নমনীয়তা বাড়ে।  দেহের ছোটপটেভাব আনে।  কাঁধের, ঘাড়ের ও কোমরের স্নায়ু - পেশী বেশ শক্ত সবল হয়। 

পেটের ভাল ব্যায়াম হয়। প্লীহা ও যকৃতের দোষ দূর করে।  পেটের অতিরিক্ত মেদ কমায়। তলপেটের শিথিলতা দূর হয়ে পেশীর গঠন দৃঢ হয়।  উচ্চতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। 

সর্বাঙ্গাসন:

চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ুন। দু'পা জোড়া করে আস্তে আস্তে ওপরের দিকে তুলুন; প্রয়োজনে দু'হাতের সাহায্য নিন।  এবার দু'হাত পিঠে রেখে কাঁধ থেকে পায়ের বুড়ো আঙ্গুল পর্যন্ত এক সরলরেখায় আনুন। চিবুক বুকে লেগে থাকবে। ৩০/৪০ সেকেন্ড করে ৩/৪ বার করুন। 

শ্বাস -প্রশ্বাস স্বাভাবিক।  সর্বাঙ্গাসনের পরে মৎস্যাসন করা দরকার। ১২/১৩ বছরের নীচে ছেলে -মেয়েদের সর্বাঙ্গাসন করা উচিৎ নয়। 


উপকারিতা:

নিয়মিত অভ্যাসে দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। গলদেশে অবস্থিত থাইরয়েড গ্ল্যান্ড অধিক কর্মক্ষম হওয়ায় থাইরক্সিন রস নিঃসরণের পরিমান বৃদ্ধি পায়; ফলে দেহ নীরোগ থাকে ও হঠাৎ কোনও রোগ-আক্রমণ হতে পারে না। দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। টনসিলের দোষ দূর করে। কণ্ঠস্বর পরিষ্কার হয়। 

দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধির সহায়ক। দেহ বিপরীতমুখী হওয়ায় অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাদির ভালো ব্যায়াম হয়। কোষ্ঠবদ্ধতা সেরে যায়। স্নায়ুদৌবল্য, মাথাধরা, অনিদ্রা দূর করে। ঘাড় ও কাঁধের পেশীর গঠন ভাল হয়। ভেরিকোজ ভেইনস আরোগ্যের সহায়ক। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ