ব্যাঘ্রাসন:
বজ্রাসনে বসুন। হাঁটুতে ভর দিয়ে উঠে সামনে ঝুঁকে দু'হাত তালু থেকে কনুই পর্যন্ত মাটিতে রাখুন। ডান পা পিছন দিকে সোজা মেলে দিন। কোমর যতটা সম্ভব উপরে তুলুন। দু'পায়ের বুড়ো আঙুলের সাহায্যে সামান্য ঝাঁকুনি দিয়ে দু'পা তুলে দেহ ছবির মত অবস্থানে আনুন।
মাথা যতটা সম্ভব তুলুন। পায়ের পাতা উপরের দিকে টানটান থাকবে। ২০/২৫ সেকেন্ড থেকে আস্তে আস্তে পা নামান। ৩/৪ বার করুন। শ্বাস স্বাভাবিক থাকবে।
উপকারিতা:
হাত, কাঁধ, ঘাড় ও কোমরের সুন্দর ব্যায়াম হয়। হাত ও কাঁধের জোর বাড়ে। মেরুদন্ড নমনীয় হয়। কুজোভাব দূর করে। অতিরিক্ত মেদ কমে। দেহ বেশ হালকা বোধ হয়।
এক পদশিরাসন :
দু'পা সামনে মেলে বসুন। মাথা সামনে কিছুটা ঝুঁকিয়ে দু'হাতের সাহায্যে ডান পা ধরে কাঁধের উপর তুলুন। এবার বাঁ পা ছবির মত ভাঁজ করে নিন। দু'হাত নমস্কারের ভঙ্গিতে বুকের কাছে এনে এবার আপনি যতটা সম্ভব হয় সোজা হয়ে বসুন। বসার পর প্রতিবার করে পা বদলে ৩০ সেকেন্ড করে মোট ৪ বার করুন।
উপকারিতা:
উরুসন্ধি নমনীয় হয়। পা ও কাঁধের স্নায়ু -পেশিগুলি সবল হয়। পায়ের বাত, সায়াটিকা হতে পারে না।
ওঁকারাসন:
বাঁ পা কাঁধে তুলে ডান পা সামনে সোজা মেলে দিন। দু'হাত দু'পাশে রেখে হাতে ভর দিয়ে দেহ কিছুটা ওপরে তুলুন। ডান পা ভাঁজ করে ডান হাতের সামনে দিয়ে ছবির মত অবস্থানে আনুন। ডান পায়ের পাতা বাঁ হাতের পিছনে থাকবে। শরীর যতটা সম্ভব সোজা রেখে সামনে তাকান। পা বদলে ৩০ সেকেন্ড করে ৪ বার করুন।
উপকারিতা:
বৃশ্চিকাসন :
উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। দু'হাতের তালু ঊরুর নিচে রেখে দু'পা টানটান করুন। এবার হাঁটু ভেঙে দু'পা তুলে কানের দু'পাশে নিয়ে আসুন। পায়ের ওপর দিয়ে নিয়ে দু'হাত থুতনির নিচে রাখুন। কনুই মাটিতে ঠেকে থাকবে। সামনে সোজা তাকান। ১৫/২০ সেকেন্ড করে ৩/৪ বার করুন।
উপকারিতা:
মেরুদন্ড ও কোমর অত্যন্ত নমনীয় হয়। ঘাড়ের ও পায়ের ব্যায়াম হয়।
বৃক্ষাসন:
সোজা দাঁড়ান। ডান পা তুলে পায়ের পাতা বাঁ পায়ের ঊরু সংলগ্ন করে যতটা সম্ভব ওপরে তুলুন। পা তোলার সময় ডান হাতের সাহায্য নিন। দু'হাত নমস্কারের ভঙ্গিতে বুকের কাছে আনুন। ৩০ সেকেন্ড থাকার পর পা নামিয়ে দিন। বাঁ পা তুলুন। এভাবে মোট ৪ বার করুন।
বেশ কিছুদিন অভ্যাসের পর টানা দু/তিন মিনিট করে দু'বার করুন। দু'হাত বুকের কাছে না রেখে নমস্কারের ভঙ্গিতে মাথার ওপর সোজা টানটান রেখেও বৃক্ষাসন করা যেতে পারে।
অভ্যাসকালে পায়ের পাতা বেশ সহজভাবে মাটির ওপর থাকবে। পায়ের আঙ্গুল যেন কুঁচকে না যায়।
উপকারিতা:
পায়ের স্নায়ু -পেশী সদৃঢ হয়; হাঁটুতে ব্যাথা হওয়ার সম্ভবনা হ্রাস পায়। মানসিক একাগ্রতা বাড়ে। পা কাঁপা রোগ নিরাময়ে সহায়ক। দৈহিক ভারসাম্য বৃদ্ধি পায়। পায়ের বাত-ব্যাথা আরোগ্য সাহায্য করে।
চতুস্কোনসন:
সোজা দাঁড়িয়ে বাঁ হাঁটু ভেঙে বাঁ পায়ের বুড়ো আঙ্গুল বাঁ হাতের দু'আঙুলের (তর্জনী ও মধ্যমা) সাহায্যে চেপে ধরুন। এবার ধীরে ধীরে বাঁ পা বাঁ দিকে সোজা মেলে দিন। ডান হাত ডান দিকে সোজা থাকবে। দেহ যতটা সম্ভব সোজা রাখার চেষ্টা করুন। পা বদলে, প্রতিবারে ৩০/৪০ সেকেন্ড করে মোট ৪ বার করুন।
উপকারিতা:
পায়ের স্নায়ু -পেশী সুগঠিত হয়। পায়ের জোর বাড়ে। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে কাজ করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। নিয়মিত অভ্যাসে সায়াটিকা বাত হওয়ার সম্ভবনা হ্রাস পি[যায়। কাঁধের ভালো ব্যায়াম হয়। হঠাৎ পড়ে গিয়ে পায়ের পেশীতে আঘাত পাওয়া বা খ্যাঁচটা লাগার সম্ভবনা কম থাকে। ফুটবল খেলোয়াড়দের পক্ষে উপযোগী। মানসিক একাগ্রতা বাড়ে।
গরুড়াসন:
বাঁ পায়ে দাঁড়িয়ে ডান হাঁটু বাঁ হাটুর উপরে আনুন। বাঁ হাঁটু সামান্য ভেঙে ডান পা ছবির মত ঘুরিয়ে বাঁ গোড়ালির কাছাকাছি স্থাপন করুন। এবার ডান কনুই -এর উপর বাঁ কনুই রেখে দু'হাত নমস্কারের ভঙ্গিতে বাঁ কানের কাছে আনুন। বাঁ পা যতটা সম্ভব সোজা রাখার চেষ্টা করুন। মেরুদন্ড সোজা থাকবে।
যে পায়ে দাঁড়িয়ে আছেন, সেই হাত ওপরে থাকবে এবং নমস্কারের ভঙ্গিতে হাত সেই দিকেই থাকবে। ৩০/৪০ সেকেন্ড করে দু'পায়ে মোট ৬ বার করুন।
উপকারিতা:
শবাসন:
চিৎ হয়ে শুয়ে হাত দু'পাশে রেখে সমস্ত দেহ শিথিল করে দিন। হাতের তালু ওপর দিকে এবং দু'পায়ের মাঝে কিছুটা ফাঁক থাকবে। চোখ বন্ধ রেখে মন চিন্তা -শূন্য করে শ্বাস -প্রশ্বাসের দিকে নিবদ্ধ করুন। শ্বাসকার্য ক্রমশ ধীর হয়ে আসবে ও দেহ অত্যন্ত হালকা বোধ হবে।
উপকারিতা:
সাধারণভাবে, প্রতিটি আসন অভ্যাসের পরে অল্প সময় এবং সবশেষে একটু বেশী সময় শবাসন করা দরকার। দেহের সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গ বিশ্রাম পায়, অধিক কর্মক্ষম হয়ে উঠে। বিশেষতঃ ফুসফুস ও হৃৎপিণ্ড অত্যন্ত বিশ্রাম পায়। সমস্ত দেহে রক্ত চলাচল ভালোভাবে হয়। মানসিক উৎকণ্ঠা, উত্তেজনা, চঞ্চলতা, অনিদ্রা, অবসান প্রভৃতি দূর করতে বিশেষ কার্যকরী। মন অত্যন্ত ধীর-স্থির হয়, মানসিক একাগ্রতা বৃদ্ধি পে।
দৈহিক ক্লান্তি দূর করে। উচ্চ রক্ত-চাপের রোগীদের শবাসন অব্যশই করণীয়। আসন্ন ঘটনা সম্পর্কে অপ্রয়োজনীয় মানসিক উৎকণ্ঠা ও উত্তেজনা হ্রাস করতে শবাসন বিশেষ কার্যকরী। পরীক্ষা শুরুর ঘন্টাখানেক আগে ছাত্রছাত্রীদের শবাসন অভ্যাস করিয়ে দেখা গেছে, পরীক্ষার হলে তারা মানসিক চাপে(মেন্টাল টেনশন) ভুগেছে অনেক কম এবং প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায়। উদ্বেগহীনভাবে।
পরীক্ষার ফলাফলের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি পরিলক্ষিত হয়েছে।
শীর্ষাসন:
বজ্রাসনে বসুন। দু'হাত পরস্পর আঙ্গুলিবদ্ধ অপস্থায় কনুই পর্যন্ত মাটিতে রাখুন। সামনে ঝুঁকে মাথার তালু মাটিতে ঠেকান। হাতের আঙ্গুল মাথার পিছনে থাকবে। দু'হাটু বুকের কাছাকাছি আনুন। মাথা থেকে কোমর পর্যন্ত সোজা রেখে দু'পা একত্রে আস্তে আস্তে মাটি থেকে তোলার চেষ্টা করুন। মাটি থেকে পা তুলে হাঁটু ভেঙ্গে কিছুক্ষন থাকা অভ্যাস হলে, পা উপরে তুলে সোজা মেলে দিন।
এই অবস্থায় মাথা থেকে পা পর্যন্ত এক সরলরেখায় এবং পায়ের পাতা ও আঙ্গুল বেশ টানটানভাবে থাকবে। দেহের ভর থাকবে মাথার তালুতে; দু'টি হাত ভারসাম্য রক্ষা করবে। প্রথম দিকে দেওয়ালের সামনে অভ্যাস করা ভাল। শুরুতে ২৫/৩০ সেকেন্ড করে ৩/৪ বার, পড়ে মিনিট করে ২ বার করুন। শ্বাস স্বাভাবিক থাকবে।
শীর্ষাসনে অবস্থানের সময় ও অভ্যাসের পরে যদি শ্বাস নিতে চাপ লাগে, মাথা ভার বোধ হয়, তাহলে বুঝতে হবে অভ্যাসে কোনও ত্রুটি হচ্ছে।
উপকারিতা:
সারাদিন আমরা যত রকম কাজকর্ম, খেলাধুলা করি তার মধ্যে একমাত্র এই অবস্থানেই মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পায়। এই আসনে মাথায় প্রচুর রক্ত এসে জমা হয়, ফলে মস্তিস্কস্থিত স্নায়ুকেন্দ্র, কোষসমূহ ও পিটুইটারী গ্রন্থি রক্ত থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর উপাদান সংগ্রহ করে অধিক পুষ্ট ও কর্মক্ষম হয় এবং সামগ্রিকভাবে দেহের অন্যান্য স্নায়ু , পেশী ও যন্ত্রাদির কাজকর্মও উন্নতি পরিলক্ষিত হয়।
হৃৎপিণ্ড কিছুটা বিশ্রাম পায়। হজম ভাল হয়; কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। স্মৃতিশক্তি, শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পায়। মানসিক উত্তেজনা হ্রাস করে ও সুনিদ্রা হয়। মানসিক পরিশ্রম, লেখাপড়া প্রভৃতিতে যাঁদের বেশী সময় ব্যয় হয়, তাদের পক্ষে শীর্ষাসন বিশেষ উপযোগী।
সতর্কতা:
চোখ, কান, নাক ও দাঁতের রোগে সতর্কতার সাথে অভ্যাস করা প্রয়োজন।
যোগাসন -দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ:
বেশ কিছুদিন নিয়মিত যোগাসন অভ্যাসের মাধ্যমে প্রত্যাশিত উপকারিতা পাওয়ার পরেও দীর্ঘদিন যোগাভ্যাস চালিয়ে যেতে পারলে, সুস্থ -সবল, কর্মঠ জীবন যাপন অনেক সহজ হয়ে যাবে। যোগাসনকে করে নিতে হবে সৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ(পার্ট অফ ডেইলি লাইফ) .তখন আর রোগ -ব্যাধি সহজে দেহকে আক্রমণ করতে পারবে না।









0 মন্তব্যসমূহ