What is the effect of yoga on our body- (আমাদের দেহের উপর যোগের প্রভাব কি?)

ব্যাম আমাদের জীবনের অন্যতম অংশ। শরীর সুস্থ রাখতে ব্যাম খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সকালে উঠে যদি আমরা ব্যাম করি তাহলে শরীর সুস্থ, সবল হয় এবং সারাদিন মন মেজাজ ভালো থাকে। কিন্তু অনেকে বলেন ব্যাম বা যোগ করা সময় নেই। অনেকে আবার ব্যাম বা যোগ করেন না।  কিন্তু আমরা আমাদের শরীর সুস্থ রাখতে ১৫-২০ মিনিট দেই তাহলে আমাদের শরীর সুস্থ থাকবে। 

আমাদের দেহের উপর যোগের প্রভাব কি?


যম, নিয়ম, আসন, প্ৰাণায়াম, প্রত্যাহার, ধারণা, ধ্যান এবং সমাধি প্রভৃতি হঠযোগ ক্রিয়ার দ্বারা আমাদের সুপ্ত তন্তুগুলো আবার সতেজ হয় এবং সূক্ষ্ম স্নায়ুতন্ত্রকে তৎপর করে তোলে যার ফলে রক্ত সঞ্চালন ক্রিয়া সঠিক হয়, এবং নতুন শক্তির বিকাশ ঘটে। যোগের প্রক্রিয়ায় শরীরের সংকোচন এবং বিমোচন হওয়ায় শরীরে শক্তির বিকাশ ঘটে এবং রোগের নিবৃত্তি হয়। 

আসন এবং প্রণায়ামের দ্বারা দেহের বিভিন্ন গ্রন্থি ও মাংস পেশীগুলোর কর্ষণ বিকর্ষণ, প্রসারণ এবং শিথিলীকরণ ক্রিয়ার দ্বারা রক্তবাহী ধমনী ও শিরাগুলি সজীব ও সচল হয়ে ওঠে। যার ফলে ডায়াবেটিস রোগ দূর হয়। যোগের দ্বারা হৃদরোগের হাত থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়। ফুসফুসে নির্মল বায়ুর প্রবেশ ঘটে, যার ফলে ফুসফুল সুস্থ হয়ে ওঠে যার ফলে হাঁপানি, এল্যার্জি, শ্বাসকষ্টের প্রকোপ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। শরীরে মেদ জমতে পারে না। শরীর হয়ে ওঠে সুস্থ, সবল ও সুন্দর।

যোগ সাধনাকে মর্যাদা দিয়ে তাতে আত্মনিয়োগ করলে আমরা অবশ্যই শারীরিক, মানসিক, বৌদ্ধিক, আত্মিক ও আধ্যাত্মিক দিকে উন্নত হয়ে ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ করতে পারি। 

যোগ কি ?

অনুকূলতা, প্রতিকূলতা, সিদ্ধি, অসিদ্ধি, সফলতা-বিফলতা, জয়-পরাজয় এই সমস্তভাবে আত্বস্থ্য থেকে সম থাকাকেই বলে যোগ। যোগ সাধনায় সিদ্ধ মহাপুরুষগণ সুখে-দুঃখে, জয়-পরাজয়ে একই থাকেন। দুঃখ-বেদনায় তারা কাতর হন না আবার শত আঘাতেও ভেঙে পড়েন না। একমাত্র যোগ সাধনাতেই এটা হওয়া সম্ভব।  

উপনিষদে এই যোগকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

  1. মন্ত্রযোগ 
  2. লয়যোগ 
  3. হঠযোগ 
  4. রাজযোগ 
মন্ত্রযোগ :

মাতৃ মন্ত্র দীর্ঘ বারো বছর নিয়ম ও নিষ্ঠার সঙ্গে জপ করলে সাধকের সিদ্ধি লাভ হয়। রামকৃষ্ণ, বামাক্ষ্যাপা, রামপ্রসাদ এই মাতৃমন্ত্র জপেই সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। 

লয়যোগ :
প্রতিদিন শত কাজের মধ্যে থেকেও  একাগ্রমনে সকালে ও শোবার আগে ঈশ্বরের ধ্যান করাকে বলে লয়যোগ।

হঠযোগ :
বিভিন্ন মুদ্রা, আসন , প্রাণায়াম প্রভৃতির দ্বারা শরীর ও মনকে একাগচিত্র ও পবিত্র করাকে বলে হঠযোগ। 

রাজযোগ :
যম, নিয়ম, আসন, প্রাণায়াম, প্রত্যাহার ধারণা ধ্যান এবং সমাধি এই অষ্টমার্গের মাধ্যমে জোতির্ময় আত্মার সাক্ষাৎকারকে বলে রাজযোগ। শ্রী শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু, লোকনাথ ব্রহ্মচারী, বুদ্ধদেব, যিশুখিস্ট, জেথর মহম্মদ প্রমুখেরা এই রাজযোগে তাদের পরমাত্মার দর্শন পেয়েছিলেন। 


 যোগব্যামের বৈশিষ্ট :

অন্যান্য ব্যায়াম ও খেলাধুলার সাথে যোগব্যামের বিশেষ কতকগুলি পার্থক্য আছে। এগুলো সমন্ধে যোগঅভ্যাসকারী প্রত্যেকেরই অবহিত থাকা প্রয়োজন। 



  • অভ্যাসকালে মন থাকে অন্তমুর্খী , চোখ বন্ধ করেও করা চলে। 
  • পা থেকে মাথা পর্যন্ত সর্বাঙ্গের ব্যায়াম হয়। 
  • অভ্যাস শেষে দেহে শান্তভাব বিরাজ করে। মন সতেজ থাকে। মানসিক চঞ্চলতা হ্রাস পায়। 
  • রোগ আরোগ্যের ও রোগ -প্রতিরোধের শক্তি গড়ে তোলার বিশেষ ক্ষমতা আছে। 
  • দৈহিক লাবণ্য, কমনীয়তা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। 
  • মেরুদন্ডকে নানাভাবে বাঁকানো যায়। 
  • শৈশবকাল থেকে বৃদ্ধাবস্থা - যে কোনো বয়সেই অভ্যাস করা চলে। 
  • হৃৎপিণ্ড , ফুসফুস প্রভৃতি অনৈচ্ছিক পেশীর কাজ ভালো হয়। 
  • উপকারিতা দীর্ঘস্থায়ী হয়।  অভ্যাস বন্ধ করার পরে কোন রকম বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় না। 
  • স্বাভাবিক দৈহিক ও মানসিক বিকাশে সহায়ক। 
  • শক্তি ক্ষয় কম হয়, তুলনায় শক্তি অর্জন হয় বেশী। 
  • কোনও সরঞ্জাম লাগে না, একটি সতরঞ্জিই যথেষ্ট। 

নিয়মাবলী:

শ্বাসপ্রস্বাস :
স্বাভাবিক থাকবে।  শ্বাস বন্ধ করা , ছাড়া , নেওয়ার উপর ইচ্ছাকৃত নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রয়োজন নেই। 

মাত্রা :
এক সময়ে ৬/৭ টি আসন করা চলে।  প্রতিটি আসন ৩/৪ বার করা দরকার।  শুরুতে প্রতিবারে ২০/৩০ সেকেন্ড , পরে ক্রমশ সময় বাড়িয়ে দেড়-দু'মিনিট থাকুন। 

পরিপূরক আসন :
মেরুদন্ড সামনে বেঁকিয়ে আসনের পর পিছনে বেঁকিয়ে করা দরকার।  যেমন শাঁসকাসনের পর উস্ট্রাসন।  যেমন আসনে দেহের একদিকে (ডান অথবা বাম) বেশী টান বা চাপ পড়ে, সেগুলো হাত-পা বদল করে উভয় দিকে সমান সময় করতে হবে। যেমন, পদ্মাসন, ত্রিকোনাসন প্রভৃতি।  

কাল:
প্রাতঃকালই শ্রেষ্ঠ সময়।  বিকেলে , সন্ধ্যায় বা স্নানের আগে করা চলে। 

মনঃসংযোগ :
একমনে ধীর -স্থির, সহজ -সরলভাবে করতে হবে। কথা বলা বা অন্যমনস্ক হওয়া ক্ষতিকর। 

অন্যান্য :
শীর্ষাসন, শশকাসন, মৎস্যাসন অভ্যাস করার সময় মাথার নীচে নরম কাপড় রাখা প্রয়োজন। 
- ব্যায়ামের পোষাক যেন খুব আঁটসাঁট বা একেবারে ঢিলাঢালা না হয়। 
-প্রতিটি আসন অভ্যাসের পর কিছু সময় ও সব শেষে একটু বেশি সময় শবাসন করা দরকার।  একটি আসন একাধিকার করার সময়, প্রতিবার অভ্যাসের পরে শবাসন না করলেও চলে। 
-আসন অভ্যাসের পরে দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকা উচিত নয়।   


নিষেধ/ সতর্কতা :

শারীরিক অসুস্থতা বা মানসিক উৎকণ্ঠা ও দুশ্চিন্তা নিয়ে, খিদে চেপে রেখে , জোর করে চাপ দিয়ে বা বাজি ধরে , মুখ বিকৃত ও আওয়াজ করে, মলমূত্রের বেগ ধারণ করে , অধিক রাত্রে বা ঘুম থেকে উঠেই সাথেসাথে এবং দেখিয়ে বাহাদুরী নেওয়ার জন্য কখনই আসন করা উচিৎ নয়। এছাড়াও -

- আমাশয়, পাতলা পায়খানা প্রভৃতিতে চক্রাসন, উস্ট্রাসন, অর্ধচন্দ্রাসন না করাই  বাঞ্চনীয়। 
-চোখ , নাক, কান ও দাঁতের রোগে শীর্ষাসন , সর্বাঙ্গসন সতর্কতার সাথে করা প্রয়োজন।  
-হার্টের রুগীদের পক্ষে শলভাসন, ময়ূরাসন ও কষ্টসাধ্য আসনসমূহ করা নিষেধ। 
-১২/১৩ বছরের নিচে ছেলে-মেয়েদের শীর্ষাসন, সর্বাঙ্গসন , হালসন, মৎস্যাসন করা উচিৎ নয়।  
-এপেন্ডিসাইটিস, হার্নিয়া প্রভৃতি রোগে পশ্চিমোত্তানাসন, শলভাসন, ধনুরাসন প্রভৃতি পেটে চাপ সৃষ্টিকারী আসন অভ্যাস বন্ধ রাখতে হবে। 
- উচ্চ রক্তচাপে মাথায় রক্ত সরবরাহ বৃদ্ধিকারী আসন; যথা- শীর্ষাসন, পদহস্তাসন, অর্ধকূর্মাসন প্রভৃতি ও শ্রমসাধ্য ব্যায়াম করা উচিৎ নয়।  


পদ্মাসন:




দু'পা সামনে সোজা মেলে দিয়ে বসুন। ডান পা হাঁটু ভেঙে বাঁ ঊরুর উপর আনুন।  অনুরূপভাবে বাঁ পা ডান ঊরুর উপরে এনে দু'হাত ছবির মত সোজাভাবে হাঁটুর কাছে রাখুন। এই অবস্থায় দু'হাঁটু মাটিতে ঠেকে থাকবে।  মেরুদন্ড সোজা রেখে বেশ সহজভাবে সামনের দিকে তাকান। চোখ বন্ধ রেখেও করা যেতে -পারে।  শ্বাস স্বাভাবিক থাকবে। ১ মিনিট থেকে পা বদলে (আগে বাঁ পা, তার ওপর ডান পা টেনে) করুন। এভাবে মোট ৪ বার করুন। 

উপকারিতা :

পদ্মাসন নিয়মিত অভ্যাসে মানসিক একাগ্রতা, ধৈর্য, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়, স্নায়বিক উত্তেজনা (নারভাস টেনশন) প্রশমিত হয় ও দৈহিক ক্লান্তি দূর হয়। হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুস কিছুটা বিশ্রাম পায়।  নিয়মিত পদ্মাসন অভ্যাস দীর্ঘজীবন ল;লাভের সহায়ক। মেরুদন্ড সরল হয় , কুজোভাব দূর হয়।  হাঁটু, পায়ের ও পাদসন্ধির (আংকেল জয়েন্ট) স্নায়ু -পেশী সবল করে, বাত ভাল হয়। যেসব কাজে অধিক মনোসংযোগ প্রয়োজন , শুরুর আগে কিছুক্ষন পদ্মাসন অভ্যাস করলে ভাল ফল পাওয়া যায়। 


বদ্ধ পদ্মাসন :


ডান ঊরুর উপর বাঁ পা ও বাঁ ঊরুর উপর ডান পা রেখে পদ্মাসনে বসুন। ডান হাত পিছন দিক দিয়ে নিয়ে ডান পায়ের বুড়ো আঙ্গুল এবং বাঁ হাত ডান হাতের তলা দিয়ে নিয়ে বাঁ পায়ের বুড়ো আঙ্গুল ধরুন।  হাঁটু মাটিতে ঠেকে থাকবে।  দু'কাঁধ যতটা সম্ভব সোজা রাখার চেষ্টা করুন।  হাত, পা বদলে ৪০/৫০ সেকেন্ড করে ৪ বার করুন। 

উপকারিতা :

কাঁধ ও পিঠের ভাল ব্যায়াম হয়। হাত ,পায়ের ও হাঁটুর স্নায়ু -পেশির দুর্বলতা দূর করে। মেরুদন্ড সরল হয়। কাঁধ উঁচু-নীচু থাকলে সমতা ফিরে আসে। যাঁদের কণ্ঠার হাড় উঁচু , বন্ধ পদ্মাসন অভ্যাসে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ